খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৪:২৪ পিএম

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে অবস্থানের পর বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরবেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র কিংবা আইনি বাধা—কোনোটিই তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে তাকে বিরত রাখতে পারবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়। বরং তিনি এটিকে বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, তিনি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন না; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তার রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় তিনি অতিক্রম করেছেন। মৃত্যুভয় তাকে কখনো দমিয়ে রাখতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি দেশের মানুষের কাছে ফিরে আসবেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো সাময়িক রাজনৈতিক সংগঠন নয়; এটি দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত একটি দল। প্রতিষ্ঠার পর গত ৭৭ বছরে দলটি বহুবার সংকটের মুখোমুখি হলেও প্রতিবারই জনগণের সমর্থনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশবিরোধী কিছু শক্তি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটিয়েছে। তবে মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগের অবস্থান মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অসংখ্য মামলা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান কোনো সরকারের সদিচ্ছা বা দয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলটির সমর্থনে কর্মসূচি পালন করছেন, যা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের প্রতিফলন।
দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শ—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তির ওপর আঘাত এসেছে। তার অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার মতো ঘটনাগুলো দেশের মৌলিক চেতনার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।
বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার বিষয়ে চলমান গুঞ্জনও স্পষ্টভাবে নাকচ করে দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক আপস বা গোপন সমঝোতার মাধ্যমে রাজনীতি করতে বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্র, অবাধ নির্বাচন এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো দর-কষাকষির বিষয় নয়; এগুলো সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার।
ভারতে অবস্থান করলেও তার মন সব সময় বাংলাদেশেই পড়ে থাকে বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, দেশের মানুষ, নিজের জন্মভূমি এবং বঙ্গবন্ধুর সমাধির কথা তাকে প্রতিনিয়ত আলোড়িত করে। শেষ দিন পর্যন্ত রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের শক্তির ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মানুষ একসময় আবারও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগও জনগণের সমর্থন নিয়েই রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।
মন্তব্য