খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেন। তবে মাঠের এই জয়ের আনন্দ ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে স্প্যানিশ কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তের কাছে। শেষ বত্রিশের টিকিট কাটলেও দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ডের চোট স্পেনের বিশ্বকাপ মিশনকে বড় ধরনের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। চোটের কারণে উইঙ্গার ইয়েরেমি পিনু পুরো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন, অন্যদিকে সদ্য চোটমুক্ত হয়ে ফেরা তারকা উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসও নতুন করে মাংসপেশির সমস্যায় পড়েছেন।
রবিবার (২৮ জুন) মেক্সিকোর গুয়াদালাজারায় দুই দলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে স্পেনকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন আলেক্স বায়েনা। তাঁর নেওয়া একটি শট প্রায় ধরেই ফেলেছিলেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। তবে হাতের মুঠো থেকে বল ফসকে অবিশ্বাস্যভাবে জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় স্পেন। এই একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। চোট জর্জরিত দল নিয়েও লা রোখারা উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পুরো তিন পয়েন্ট তুলে নিতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে স্পেনের আক্রমণভাগের গতি বাড়াতে ক্রিস্টাল প্যালেসের উইঙ্গার ইয়েরেমি পিনুকে মাঠে নামিয়েছিলেন কোচ। তবে মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরই কাঁধে গুরুতর চোট পান তিনি। ততক্ষণে স্পেনের বদলি খেলোয়াড় নামানোর সব কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা সহ্য করেই খেলা চালিয়ে যান পিনু।
ম্যাচ শেষে মেডিকেল পরীক্ষায় জানা যায়, পিনুর কলার-বোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে এবারের বিশ্বকাপে তাঁর আর মাঠে নামার কোনো সুযোগ নেই। স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় পিনুর হাতে স্লিং পরা অবস্থা দেখা যায়। শিষ্যের এমন সাহসিকতার প্রশংসা করে লুই দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “ইয়েরেমির জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। প্রচণ্ড কষ্ট নিয়েও সে মাঠ ছাড়েনি, এটি সত্যিই নায়কোচিত। আমার মনে হয় না সে আর এই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে।”
স্পেনের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছেন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ফরোয়ার্ড নিকো উইলিয়ামস। পুরো মৌসুমজুড়েই চোটের সঙ্গে লড়াই করা এই তারকাকে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটের জন্য মাঠে নামানো হয়েছিল, যেন তিনি নকআউটের আগে কিছুটা ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনিও নতুন করে মাংসপেশিতে চোট পান।
উইলিয়ামসের চোট নিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “নিকো একদমই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না। এটি মাংসপেশির টান হতে পারে, আবার ক্লান্তির কারণেও হতে পারে। নিশ্চিত হতে আমাদের আগামীকালের পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।” পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তাঁর মাংসপেশিতে নতুন করে টান লেগেছে, যা তাঁকে নকআউট পর্বে খেলানোর বিষয়টিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
পেশির সমস্যার কারণে স্পেনের আরেক তরুণ ভিক্টর মুনোজ এখনও বিশ্বকাপে মাঠে নামতেই পারেননি। তবে এই সব দুঃসংবাদের মাঝে স্প্যানিশ শিবিরের একমাত্র স্বস্তির খবর হলো, চোট কাটিয়ে তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। চোটের কারণে স্পেন এখনও তাদের চেনা ছন্দে ফিরতে না পারলেও, নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আক্রমণভাগের এই মিনি-হাসপাতাল স্পেনের টিম ম্যানেজমেন্টকে গভীর ভাবনায় ফেলে দিয়েছে।
মন্তব্য