খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৫:১৯ পিএম

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে আটক করতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রের হামলার শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহত দুই কর্মকর্তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মতিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একাধিক মামলার আসামি এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত রাশিদুল ইসলামকে আটক করতে রাতের অভিযানে তার বাড়িতে যান এসআই রুহুল আমীন ও এএসআই আব্দুল মতিন। অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে নিয়ন্ত্রণে নিলেও রাশিদুল কৌশলে লুঙ্গি বদলে প্যান্ট পরে আসার অনুমতি চান। সেই সুযোগে তিনি ঘরের ভেতরে গিয়ে একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
হামলায় দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনারুল ইসলাম জানান, আহত দুই কর্মকর্তার মধ্যে এসআই রুহুল আমীনের আঘাত তুলনামূলক বেশি গুরুতর ছিল। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অপর আহত কর্মকর্তাকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে আটক করতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার মতো ঘটনা শুধু পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে না, বরং বিচারিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। বিশেষ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ধরতে পরিচালিত অভিযানে এ ধরনের সহিংসতা নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য