দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি (IPDC) ফাইন্যান্স লিমিটেড চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যবসায়িক মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা প্রায় ৩ কোটি টাকা বা ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইপিডিসির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন ও চূড়ান্ত করা হয়।
Table of Contents
আর্থিক পারফরম্যান্সের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির আয়ের প্রধান উৎস অর্থাৎ ঋণের সুদ বাবদ আয়ও এই সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটি ঋণ প্রদান করে সুদ বাবদ মোট ২৪৩ কোটি টাকা আয় করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২২৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে ঋণের সুদ থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান
আইপিডিসির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঋণের বিপরীতে আয়ের প্রবৃদ্ধি যে হারে হয়েছে, আমানতের বিপরীতে ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল তার চেয়ে অনেক কম। এটি প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আমানতের সুদ বাবদ প্রতিষ্ঠানটি খরচ করেছে ১৮৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমানতকারীদের সুদ প্রদানের ব্যয় বেড়েছে মাত্র ৩ কোটি টাকা, যেখানে ঋণ থেকে আয় বেড়েছে ১৪ কোটি টাকা।
সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ
সুদ থেকে অর্জিত আয়ের পুরোটা মুনাফায় প্রতিফলিত না হওয়ার প্রধান কারণ হলো খেলাপি ঋণ বা ঝুঁকির বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ। আর্থিক খাতের নিয়ম অনুযায়ী, ঋণের মান বিবেচনা করে একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চিতি হিসেবে রাখতে হয়। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আইপিডিসিকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বাবদ ৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ২১ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রভিশন বাবদ খরচ গত বছরের তুলনায় ২৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিট মুনাফা কিছুটা সীমিত হয়েছে।
একনজরে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক তথ্য
নিচে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচকসমূহের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| সূচকসমূহ | ২০২৪ (জানুয়ারি-মার্চ) | ২০২৩ (জানুয়ারি-মার্চ) | পরিবর্তনের পরিমাণ/হার |
| নিট মুনাফা | ৬.৫২ কোটি টাকা | ৩.৬৫ কোটি টাকা | + ৭৯% (২.৮৭ কোটি) |
| ঋণের সুদ থেকে আয় | ২৪৩ কোটি টাকা | ২২৯ কোটি টাকা | + ১৪ কোটি টাকা |
| আমানতের সুদ ব্যয় | ১৮৪ কোটি টাকা | ১৮১ কোটি টাকা | + ৩ কোটি টাকা |
| নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) | ৪৭ কোটি টাকা | ২১ কোটি টাকা | + ২৬ কোটি টাকা |
প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য
আর্থিক খাতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইপিডিসি ফাইন্যান্স তাদের সুদ আয়ের ব্যবধান (Spread) দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে পেরেছে। আমানতের সুদের হার নিয়ন্ত্রণে রেখে ঋণের সুদ থেকে আয় বাড়াতে পারায় তাদের পরিচালনা মুনাফা শক্তিশালী হয়েছে। তবে ঋণের গুণমান বজায় রাখার স্বার্থে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা পরিপালনে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হয়েছে। যদি এই সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণ গত বছরের সমপর্যায়ে থাকতো, তবে নিট মুনাফার পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতো।
আইপিডিসি ফাইন্যান্স ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বেসরকারি খাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিল্পঋণ, গৃহঋণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ৭৯ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী কাঠামোরই ইঙ্গিত দেয়। প্রথম প্রান্তিকের এই ইতিবাচক ধারা বছরের পরবর্তী প্রান্তিকগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন।
