খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৪:৭ পিএম

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন শ্রীবল্লভপুর এলাকায় একটি বড় ধরনের জালিয়াত চক্রের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৬ ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল ও অননুমোদিত ওষুধ, রাসায়নিক কাঁচামাল এবং ওষুধ তৈরির সরঞ্জামসহ একটি পিকআপভ্যান জব্দ করা হয়েছে। এ সময় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রীবল্লভপুর এলাকায় অবস্থান নেন। সন্দেহভাজন একটি পিকআপভ্যান সেখানে পৌঁছালে সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটি থেকে উদ্ধার হয় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ হাজার হাজার পিস ভেজাল ওষুধ। যার মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের বিভিন্ন জটিল রোগের অ্যান্টিবায়োটিক, সাধারণ ও ব্যথানাশক ক্যাপসুল, ট্যাবলেট ও তরল সিরাপ রয়েছে।
অভিযানে শুধু তৈরি ওষুধই নয়, বরং বিশাল একটি অবৈধ কারখানা পরিচালনার সব উপাদান উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গাড়িটি থেকে ১৮ হাজার ৬৬০ পিস তৈরি নকল ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ওষুধ তৈরির জন্য মজুত রাখা প্রায় ১০০ কেজি বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পাউডার, ৭ লিটার তরল কেমিক্যাল, জেনুইন কোম্পানির মতো দেখতে প্রায় ২০ হাজার জং ধরা ও চকচকে ওষুধের লেবেল এবং প্যাকেটজাতকরণের জন্য ১৫ কেজি ফয়েল পেপার জব্দ করা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ওষুধগুলো সাধারণ কোনো উপায়ে তৈরি হচ্ছিল না। নকল ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি স্বয়ংক্রিয় ও আধা-স্বয়ংক্রিয় মেশিনও এই চালানের সাথে ধরা পড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত চক্রের সাথে মিলে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। এই চক্রটি নামী-দামী দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের ওষুধ হুবহু নকল করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফার্মেসিগুলোতে সরবরাহ করত। সাধারণ মানুষ আসল ও নকলের পার্থক্য বুঝতে না পেরে এসব বিষাক্ত উপাদান শরীরে প্রবেশ করাচ্ছিলেন, যা লিভার ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত মালামাল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ওষুধ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা এবং এর সাথে আর কারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। মাদকের মতোই এই নকল ওষুধের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মন্তব্য