খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুন ২০২৬, ৯:৫৮ পিএম

দেশের চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারের মোট বকেয়া রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকারও বেশি। লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, মূসক, প্রশাসনিক জরিমানা এবং অন্যান্য খাতের এই বিপুল অঙ্কের পাওনা আদায় নিয়ে আলোচনা চলছে বিভিন্ন পর্যায়ে। এর একটি অংশ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী বকেয়া অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের কাছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে সরকারের পাওনা ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। এই অর্থের মধ্যে লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মন্ত্রী জানান, টেলিটক ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ইকুইটি কনভার্সনের আবেদন করেছে, যা বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে দেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে বিটিআরসির দাবি আরও বড়। ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে মোট দাবি ছিল ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা। আদালতের নির্দেশ অনুসারে গ্রামীণফোন দুই কিস্তিতে ২ হাজার ৩৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। এরপরও বর্তমানে ৬ হাজার ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
রবি আজিয়াটার ক্ষেত্রে ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি এবং পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর মূসক সংক্রান্ত দাবিসহ মোট ৬৭৮ কোটি টাকা দাবি করা হয়। আদালতের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ কিস্তিতে ১৮৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। অবশিষ্ট অর্থ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে।
বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অডিট আপত্তি ও মূসক সংক্রান্ত দাবির ভিত্তিতে ৪৭৩ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ৩৮১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। বাকি অর্থ নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিচে অপারেটরভিত্তিক সরকারের পাওনা অর্থের চিত্র তুলে ধরা হলো:
| মোবাইল অপারেটর | বকেয়া/দাবিকৃত অর্থ |
|---|---|
| টেলিটক | ৫,৯৫৪ কোটি টাকা |
| গ্রামীণফোন | ৬,১০২ কোটি টাকা |
| রবি আজিয়াটা | ৬১৫ কোটি টাকা |
| বাংলালিংক | ৪৭৩ কোটি টাকা |
মোবাইল খাত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজস্ব প্রদানকারী খাত হিসেবে পরিচিত। তাই এসব বকেয়া অর্থ আদায়, আদালতে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অপারেটরদের মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এসব আর্থিক বিরোধের সমাধান হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ খাতে নীতিগত স্বচ্ছতাও আরও জোরদার হবে।
মন্তব্য