জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় একাধিক গুরুতর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এস এম ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের ভীমপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তিনি বোয়ালমারী ও আশপাশের এলাকায় একাধিক সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক এই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ মোট ৬টি মামলা ঝুলছে।
সন্ত্রাসবিরোধী মামলা: ২০২৫ সালে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে বোয়ালমারী থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বিস্ফোরক মামলা: গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে পাশের আলফাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক মামলার তিনি এজাহারভুক্ত আসামি।
অন্যান্য মামলা: পুলিশ আরও জানায়, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি জোড়া হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের হওয়া আরও চারটি পৃথক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ফারুক হোসেনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ফরিদপুরের সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে (ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট) সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
ফারুক হোসেনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ঘোষপুর ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা নজরুল ইসলাম ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন।
তার মতে, ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। মন্ত্রীর রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। নদী ও বিলের অবৈধ বালুমহাল ইজারা না নিয়েই দখল, সাধারণ মানুষের কৃষিজমি ও সরকারি খাসজমি দখল এবং নির্বাচনকালে জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের মতো নানা অনিয়মে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ফারুক ও তার অনুসারী ক্যাডার বাহিনী। তার কারণে ঘোষপুর ও ভীমপুর এলাকার সাধারণ মানুষকে তটস্থ থাকতে হতো।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভীমপুরসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত টহল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত যে কারো বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
মন্তব্য