ফেনীর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে। চোরাচালান বিরোধী এই অভিযানে উদ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরের দিকে জেলার ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলা সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের বিবরণ ও চোরাকারবারিদের পলায়ন
ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ কাপড়ের একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে—এমন একটি গোপন ও সুনির্দিষ্ট সংবাদ বিজিবির কাছে পৌঁছায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) একটি চৌকস বিশেষ টহল দল দ্রুত ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী সীমান্তের নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেয় এবং কৌশলগত অভিযান শুরু করে।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে বিজিবি টহল দল যখন চোরাচালানের মূল রুটগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছিল, তখন চোরাকারবারিরা দূর থেকে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। আইনি পন্থায় গ্রেফতার এড়াতে তারা অবৈধভাবে আনা ভারতীয় শাড়ির বস্তাগুলো ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। বিজিবি টহল দল চোরাকারবারিদের ধাওয়া করলেও সীমান্তে ভারতীয় ভূখণ্ডের কাছাকাছি হওয়ায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও শুল্কহীন ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার ও জব্দ করেন।
আইনানুগ প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকা থেকে জব্দ করা শুল্কহীন ভারতীয় শাড়ির এই বিশাল চালানটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার পর বিধি মোতাবেক পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সীমান্তবর্তী এই আভিযানিক সাফল্যের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিল্লাল হোসেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সর্বদা বদ্ধপরিকর। সীমান্তে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং পুশ ইন (পুশ-ইন) কার্যকরভাবে রোধ করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের মাদক ও পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিযানিক কার্যক্রম পূর্বের চেয়ে আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজিবি অভিযানের সংক্ষিপ্ত তথ্য বিবরণী
ফেনী সীমান্তে পরিচালিত এই চোরাচালান বিরোধী অভিযানের সার্বিক নিশ্চিত তথ্য ও পরিসংখ্যান নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| অভিযানের বিবরণ ও খাত | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ফ্যাক্টস |
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা | বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) |
| অভিযানের সময়কাল | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন (ভোররাত) |
| অভিযানের সুনির্দিষ্ট স্থান | ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী সীমান্ত এলাকা, ফেনী জেলা |
| জব্দকৃত চোরাচালানের মালামাল | বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি |
| জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য | ৪১,২০,০০০ টাকা (৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা) |
| অভিযানের ফলাফল ও আটক | চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় কেউ আটক হয়নি |
| পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ | জব্দকৃত শাড়ি স্থানীয় কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন |
| বিজিবি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা | বিল্লাল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, ৪ বিজিবি |
সীমান্তবর্তী জেলা ফেনীর অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলার সুরক্ষায় অবৈধ চোরাচালান রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪ বিজিবি)-এর এই ধরনের ঝটিকা অভিযান এবং কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
