মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিতের জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে বিমান হামলা

হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঘোষণার পর মঙ্গলবার এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে হামলার পর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে প্রণালীসংলগ্ন বন্দরনগরী সিরিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলার ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, কাশম দ্বীপের পাশাপাশি নিকটবর্তী বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথের কাছাকাছি জাস্ক কাউন্টির আশপাশেও বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না। তার এই বক্তব্যকে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায়। ওই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় জবাব দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা আমাদের একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে, এখন আমরা যা বলি তা করে দেখাচ্ছি।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আমি আরও মনে করি জবাব এটার মতো কঠোর ও শক্তিশালী হওয়া উচিত।”

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত। এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে অতিরিক্ত কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়তথ্য
হামলার তারিখমঙ্গলবার
হামলাকারী পক্ষযুক্তরাষ্ট্র
লক্ষ্যস্থলকাশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকা
হামলার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিমার্কিন এএইচ-৬৪ হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়া
ভূপাতিত হেলিকপ্টারএএইচ-৬৪ আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার
ইরানের প্রতিক্রিয়াহামলা বা হুমকির জবাব দেওয়ার ঘোষণা
গুরুত্বপূর্ণ এলাকাহরমুজ প্রণালী
মার্কিন অবস্থানকঠোর ও শক্তিশালী জবাবের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ