খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুন ২০২৬, ৩:২৫ পিএম

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেন পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি বালুবাহী পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। রোববার সকাল আনুমানিক ৮টা ৫৫ মিনিটে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সৌভাগ্যজনকভাবে এতে কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি, তবে ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনাস্থলের পূর্ব পাশে একটি পাহাড়ি ছড়া রয়েছে, যেখান থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ওই বালু পরিবহনের জন্য নিয়মিতভাবে কিছু পিকআপ ভ্যান রেললাইন অতিক্রম করে থাকে। ঘটনার সময় একটি বালুবাহী পিকআপ ভ্যান রেললাইন পার হচ্ছিল। একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি দ্রুতগতিতে ওই স্থান অতিক্রম করলে পিকআপ ভ্যানটির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের মুহূর্তে পিকআপ ভ্যানের চালক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে পড়েন। এতে তিনি অক্ষত অবস্থায় প্রাণে রক্ষা পান। তবে সংঘর্ষের কারণে পিকআপ ভ্যানটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে এবং যানটির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা দ্রুত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, ওই এলাকায় কোনো বৈধ রেলক্রসিং না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহন চলাচল করে আসছে। বিশেষ করে বালুবাহী যানবাহনগুলো নিয়ম না মেনে রেললাইন পারাপার করে, ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাদের মতে, প্রশাসনিক নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় ফেনী অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি অবৈধ পারাপারের কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার পরপরই রেললাইন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। পরে ঢাকা অভিমুখী লাইনে সীমিত আকারে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামমুখী লাইনে দ্রুত মেরামতের কাজ চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, ঘটনার কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অননুমোদিত রেললাইন পারাপার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলন ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে না আনলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | মধ্যম সোনাপাহাড়, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন, মিরসরাই |
| সময় | সকাল আনুমানিক ৮টা ৫৫ মিনিট |
| সংশ্লিষ্ট ট্রেন | পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (সিলেটগামী) |
| যানবাহন | বালুবাহী পিকআপ ভ্যান |
| হতাহতের ঘটনা | কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি |
| ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত | প্রায় এক ঘণ্টা |
| প্রধান কারণ | অবৈধভাবে রেললাইন পারাপার |
এই ঘটনায় রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য