ভৈরবে রেলপথ অবরোধে পাঁচটি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকে ব্যাহত চলাচল

কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জের ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় একটি খেলাধুলার বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এক পক্ষ রাত ৯টা ১০ মিনিট থেকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলপথ অবরোধ করে রাখে। রেলপথ অবরোধের কারণে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে চলাচলকারী বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ে। যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা বিবেচনা করে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলে এই দুই রুটে এক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং অন্তত পাঁচটি ট্রেন বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে ও মাঝরাস্তায় অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকা পড়ে আছে।

বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে শুক্রবার (৫ জুন) রাত সোয়া ১২টার দিকে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভৈরব স্টেশনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি আন্তঃনগর, কনটেইনার এবং কমিউটার ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে বিলম্বিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। মাঝরাস্তায় এবং বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেনগুলো আটকে থাকার কারণে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

আটকে পড়া ট্রেনসমূহের বর্তমান অবস্থান ও বিবরণের তালিকা

ভৈরব স্টেশনের ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা ট্রেনগুলোর নাম, নম্বর, সময় এবং বর্তমান অবস্থানের বিস্তারিত তথ্য নিচে ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

ক্রমিক নংট্রেনের নম্বরট্রেনের নামআটকে থাকার শুরুর সময়বর্তমান অবস্থান
৭০৩মহানগর গোধূলিরাত ৯টা ১৫ মিনিটভৈরব স্টেশনের বাইরে
৭১০পারাবত এক্সপ্রেসরাত ৯টা ৩৩ মিনিটতালশহর স্টেশন
৭৪৯এগারোসিন্ধুর গোধূলিরাত ৯টা ২২ মিনিটদৌলতকান্দি স্টেশন
৬০৬কন্টেইনার ট্রেনরাত ৯টা ৩৫ মিনিটমেথিকান্দা স্টেশন
প্রযোজ্য নয়নরসিংদী কমিউটার ট্রেনরাত ৯টা ৩৮ মিনিটখানাবাড়ী স্টেশন

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, রেলপথের এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। একই সাথে রেলপথ থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। রেলওয়ের পাঠানো বার্তায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর এবং ট্রেন চলাচলের জন্য নিরাপদ ঘোষণা করে পুনরায় অনুমতি প্রদান করা হলেই কেবল ট্রেন পরিচালনা কার্যক্রম আবার সচল করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রেল কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।