খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুলাই ২০২৬, ৩:১৬ পিএম

যুক্তরাজ্যের এসেক্সের একটি সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে জোয়ারের তীব্র স্রোতে ভেসে একই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক মা, তার কিশোরী মেয়ে এবং তাদের স্বজন এক শিশু। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন যুক্তরাজ্য যুবদলের সহসভাপতি শেখ মনসুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা রহমান (৪২), তাদের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া রহমান এবং সেলিনার বোনের ৯ বছর বয়সী ছেলে মুসা আহমেদ। শেখ মনসুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নে।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে নিহত মনসুর রহমানের ভাই শেখ মাহফুজুর রহমান মুন্না জানান, বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে পরিবারের সদস্যরা এসেক্সের কোলচেস্টারের কাছে ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতে ঘুরতে যান। একপর্যায়ে উপকূলে হঠাৎ জোয়ারের পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করলে শিশু মুসা আহমেদ শক্তিশালী স্রোতে ভেসে যায়। তাকে উদ্ধারের জন্য পানিতে নামেন সেলিনা রহমান। মাকে সহায়তা করতে গিয়ে পানিতে নামে কিশোরী সামিয়া রহমানও। কিন্তু প্রবল স্রোতের কাছে তারা তিনজনই অসহায় হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যান।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, লাইফবোট উদ্ধারকর্মী, কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টার এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনজনকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনরা জানিয়েছেন, এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে একই ঘটনায় পরিবারের তিন সদস্যকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে এনে দাফন করা হবে, নাকি যুক্তরাজ্যেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে—সে বিষয়ে এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
উপকূলীয় এলাকায় জোয়ার-ভাটার সময় পানির উচ্চতা ও স্রোতের গতি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে অপরিচিত সৈকতে বেড়াতে গেলে সতর্কতামূলক নির্দেশনা অনুসরণ করা, শিশুদের নিবিড় নজরদারিতে রাখা এবং বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
এসেক্সের এই মর্মান্তিক ঘটনায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের সদস্যরা শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত স্বজনদের এই কঠিন সময় ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য