খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুলাই ২০২৬, ৩:০ পিএম

রাজধানীর ভাটারায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বেরিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্যের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আনোয়ার হোসেন শাহিন (২৫) এবং তাঁর আট বছর বয়সী ভাগনি হাফসা। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ আনোয়ারের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু হাফসার মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনোয়ার হোসেন শাহিন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণে আনোয়ারের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং হাফসার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। একই ঘটনায় দগ্ধ ফাহিমা আক্তারের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁর অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন এবং তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার ভোরে ভাটারা থানাধীন নতুন বাজার ১০০ ফিট এলাকার একটি বাড়ির নিচতলায়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, বাসার ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের কোনো একটি অংশ বা ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে জমে ছিল। পরে কোনো উৎস থেকে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ধারণা, সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিহত আনোয়ার হোসেন শাহিন ঢাকার একটি কাপড়ের দোকানে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র ছয় মাস আগে তিনি ফাহিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁরা ভাটারার ওই ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। দুর্ঘটনার সময় তাঁদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল আনোয়ারের ভাগনি হাফসা। আনন্দঘন পারিবারিক সেই সফরই শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়।
বাংলাদেশে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার এখন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, সিলিন্ডার স্থাপনের সময় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা, নিয়মিত সংযোগ ও নিয়ন্ত্রক যন্ত্র পরীক্ষা করা এবং গ্যাসের গন্ধ পাওয়া মাত্র আগুন বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসতর্কতা থেকেও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
ভাটারার এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু এবং আরেকজনের জীবন-মৃত্যুর লড়াই আবারও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
মন্তব্য