জুনজুড়ে তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, মাঝামাঝি বাড়তে পারে বৃষ্টি

জুন মাসে দেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে এবং বৃষ্টিপাতও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রদানকারী বিশেষজ্ঞ কমিটি। একই সঙ্গে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাসের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষা শুরু হলেও জুনজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার নিচে থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়ার সংজ্ঞা অনুযায়ী, মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। অন্যদিকে মাঝারি তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞ কমিটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন মাসে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।

জুন মাসে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত

বিভাগসম্ভাব্য বৃষ্টিপাত (মিলিমিটার)
চট্টগ্রাম ও সিলেট৬০০–৬৩০
বরিশাল৪২০–৪৭০
রংপুর৪০০–৪২০
ঢাকা৩৩০–৩৫০
খুলনা২৮০–৩০০
রাজশাহী২৭০–২৯০

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা এখনই তাপপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বগুড়া, রাজশাহী, নেত্রকোনা এবং রংপুরের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে সার্বিকভাবে তাপপ্রবাহের প্রভাব কমতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও জানান, রাজধানী ঢাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি এবং গরমের অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু এখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি; বর্তমানে এটি মিয়ানমার উপকূলের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। বাংলাদেশে প্রবেশ করতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মে মাসের আবহাওয়ার চিত্র

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশে গড়ে ২৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিকের নিচে।

মে মাসে সর্বোচ্চ একদিনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় দিনাজপুরে। ১৩ মে সেখানে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ওই মাসে পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বালী বায়ুর প্রভাবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত, দমকা হাওয়া এবং বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টির ঘটনাও ঘটে।

তাপমাত্রার ক্ষেত্রে মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৮ মে চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৩ মে সিলেটে রেকর্ড করা হয়। তবে সার্বিকভাবে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল।

নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হলে সংশ্লিষ্ট নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। সামগ্রিকভাবে জুন মাসে তাপপ্রবাহ, বজ্রঝড়, মৌসুমি বায়ুর বিস্তার এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত—সব মিলিয়ে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।