বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট আবারও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এই নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্বের সময়সূচি পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক দপ্তরকে তা বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।
সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে পূর্বে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম কার্যকর ছিল।
এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে এই সময়সীমায় সাময়িক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ওই সময়ে দোকানপাট ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়, যা কার্যকর ছিল ১০ মে থেকে।
নতুন নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া সেই বিশেষ সময়সীমার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুন থেকে পূর্বের নিয়ম আবারও কার্যকর করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাটকে রাত ১০টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শুধু দোকানপাটই নয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। একই নিয়ম দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ এসব আয়োজনের আলোকসজ্জা ও বিদ্যুৎ ব্যবহার নির্ধারিত সময়ের পর বন্ধ রাখতে হবে।
সরকারি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় তদারকি ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিচে সময়সূচির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
সময়সূচি সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | পূর্বের নিয়ম | ঈদকালীন সময় | বর্তমান নির্দেশনা |
|---|---|---|---|
| শপিংমল ও দোকান বন্ধের সময় | সন্ধ্যা ৭টা | রাত ১০টা | সন্ধ্যা ৭টা |
| সময় পরিবর্তনের মেয়াদ | প্রযোজ্য নয় | ১০ মে থেকে ঈদকালীন সময় | ১ জুন থেকে পুনর্বহাল |
| বিলবোর্ডের বাতি বন্ধ | সন্ধ্যা ৭টা | রাত ১০টা পর্যন্ত অনুমোদিত | সন্ধ্যা ৭টা |
| মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান | সন্ধ্যা ৭টা | রাত ১০টা পর্যন্ত অনুমোদিত | সন্ধ্যা ৭টা |
নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
