চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল বাবা-ছেলের প্রাণ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার নতুন ব্রিজ এলাকায় পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৮টার দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুর্গাপদ মল্লিক (৭৫)। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তার ছেলে বিধান মল্লিকের (৪৭) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত দুর্গাপদ মল্লিক আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত নগেন্দ্র মল্লিকের ছেলে। তার ছেলে বিধান মল্লিক মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে মইজ্জ্যারটেকমুখী একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা দুর্গাপদ মল্লিক ছিটকে সড়কের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন। আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলেও তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, মোটরসাইকেলচালক বিধান মল্লিক গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও কিছু সময় পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফলে একই দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলের মৃত্যুতে পরিবারটি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর পিকআপটির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করছে এবং পলাতক চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজও চলছে।

দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
দুর্ঘটনার স্থানকর্ণফুলী নতুন ব্রিজের প্রথম সিঁড়ি সংলগ্ন এলাকা
সময়মঙ্গলবার, সকাল ৮টা
সংশ্লিষ্ট যানবাহনপিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেল
নিহতদুর্গাপদ মল্লিক (৭৫), বিধান মল্লিক (৪৭)
সম্পর্কবাবা ও ছেলে
বাড়িচাতরী ইউনিয়ন, আনোয়ারা উপজেলা
আহতের চিকিৎসাচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
তদন্তকারী সংস্থাকর্ণফুলী থানা পুলিশ

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর জামান জানিয়েছেন, নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু সংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালক, যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।