ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই একটি আলোচনা রয়েছে—প্রতিযোগিতাটিতে ব্যাটসম্যানদের তুলনায় বোলাররা তুলনামূলকভাবে বেশি চাপে থাকেন। ব্যাট ও বলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে বিভিন্ন সময়ে নানা মতামত এসেছে। এবার সেই আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের মন্তব্য।
চলতি আইপিএলের ফাইনালের আগের রাতে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ইএসপিএনক্রিকইনফো অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে টেন্ডুলকার আইপিএলের বর্তমান কিছু নিয়ম নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ব্যাটসম্যান ও বোলারদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা।
সবচেয়ে আগে তিনি আইপিএলে চালু থাকা ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মটি বাতিল করার পক্ষে মত দেন। ২০২৩ মৌসুমে চালু হওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, টসের সময় ঘোষিত পাঁচজন বিকল্প খেলোয়াড়ের তালিকা থেকে একজনকে ম্যাচ চলাকালে মূল একাদশের কোনো খেলোয়াড়ের পরিবর্তে নামানো যায়। ফলে কার্যত প্রতিটি দল ১২ জন খেলোয়াড় ব্যবহারের সুযোগ পায়।
টেন্ডুলকারের মতে, এই নিয়ম ব্যাটসম্যানদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করছে। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাত্র ২০ ওভারের খেলায় যখন দ্রুত রান তোলার প্রবণতা বেশি থাকে, তখন অতিরিক্ত একজন ব্যাটসম্যানের সুযোগ ব্যাটিং দলকে আরও আক্রমণাত্মক হতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, বোলাররা এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, আর এই নিয়ম খেলায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে।
ব্যাট ও বলের মধ্যে ভারসাম্য ফেরাতে টেন্ডুলকার আরও দুটি প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রথমটি পাওয়ারপ্লে ব্যবস্থার পরিবর্তন সংক্রান্ত। বর্তমানে ইনিংসের প্রথম ছয় ওভারে ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে মাত্র দুজন ফিল্ডার রাখার অনুমতি রয়েছে। টেন্ডুলকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম চার ওভার বর্তমান নিয়মেই চলবে। এরপর পাওয়ারপ্লের বাকি দুই ওভার ফিল্ডিং অধিনায়ক নিজের কৌশল অনুযায়ী ইনিংসের যেকোনো সময়ে ব্যবহার করতে পারবেন। সেই নির্ধারিত দুই ওভারে বৃত্তের বাইরে একজন অতিরিক্ত ফিল্ডার রাখার সুযোগ থাকবে। তাঁর বিশ্বাস, এতে ফিল্ডিং দল ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আরও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
আরেকটি প্রস্তাব এসেছে বোলারদের ওভার সীমা নিয়ে। বর্তমানে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে একজন বোলার সর্বোচ্চ চার ওভার বল করতে পারেন। টেন্ডুলকার মনে করেন, একজন বোলারকে পাঁচ ওভার বল করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর যুক্তি, সাধারণত দলের সেরা বোলারই অতিরিক্ত ওই ওভারটি করবেন। যেহেতু শীর্ষ ব্যাটসম্যানেরা অনেক সময় পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পান, তাই দলের সেরা বোলারও অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
নিচের সারণিতে টেন্ডুলকারের তিনটি প্রধান প্রস্তাব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| প্রস্তাব | বর্তমান নিয়ম | টেন্ডুলকারের প্রস্তাব |
|---|---|---|
| ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার | বিকল্প তালিকা থেকে একজন খেলোয়াড় মাঠে নামানো যায় | নিয়মটি বাতিল করা |
| পাওয়ারপ্লে | প্রথম ৬ ওভার নির্ধারিত ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতা | প্রথম ৪ ওভার নির্দিষ্ট, বাকি ২ ওভার অধিনায়ক কৌশলগতভাবে ব্যবহার করবেন |
| বোলারের ওভার সীমা | সর্বোচ্চ ৪ ওভার | একজন বোলারকে ৫ ওভার করার অনুমতি |
আইপিএলের বর্তমান কাঠামোতে ব্যাটিংবান্ধব পরিবেশ নিয়ে আলোচনা চললেও টেন্ডুলকারের প্রস্তাবগুলোর মূল লক্ষ্য হলো প্রতিযোগিতাটিতে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের মধ্যে আরও সুষম প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খেলার কৌশলগত দিককে আরও সমৃদ্ধ করা এবং বোলারদের জন্য বাড়তি সুযোগ সৃষ্টি করাই এসব পরিবর্তনের প্রধান উদ্দেশ্য।
