পরকীয়া সন্দেহে যুবক জোবায়েদ হত্যাকাণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে জোবায়েদ (২৬) নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি রানা (৩৮) পুলিশের কাছে প্রাথমিক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলার কোদালিয়া–হোসেনপুর পাকা সড়কের শৈলজানি এলাকার পুরপুরা সেতুর ওপর জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর শনিবার রাতে নিহত জোবায়েদের বাবা আলতাফ উদ্দীন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় থানার উপপরিদর্শক জনি মিয়াকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলার পরদিন শনিবার সকালে পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে প্রধান আসামি রানা (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার চরপলাশ গ্রামের মো. ফিরোজ মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তারের পর রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রানা জানান, নিহত জোবায়েদ তার আপন মামাতো ভাই ছিলেন। এই আত্মীয়তার সূত্র ধরেই জোবায়েদ ও রানার স্ত্রীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক পরকীয়ায় রূপ নেয় বলে তিনি দাবি করেন। প্রায় দুই মাস আগে বিষয়টি জানতে পেরে রানা তার স্ত্রী ও জোবায়েদকে সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তাদের মধ্যে সম্পর্ক অব্যাহত থাকে।

এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং এক পর্যায়ে রানার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে ঈদুল আজহার দুই দিন আগে রানা জানতে পারেন যে তার স্ত্রী জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে গিয়ে তিনি তাদের একসঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন রানা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর রানা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের পরের দিন শুক্রবার রাতে তিনি জোবায়েদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর শৈলজানি এলাকার পুরপুরা সেতুর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জনি মিয়া জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার রানাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা

সময়/তারিখঘটনাস্থানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টাজোবায়েদের মরদেহ উদ্ধারপুরপুরা সেতু, শৈলজানিজোবায়েদ, স্থানীয়রা, পুলিশ
শুক্রবার রাতমরদেহ হাসপাতালে নেওয়া, মৃত্যু ঘোষণাপাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সচিকিৎসক, পুলিশ
শনিবার রাতহত্যা মামলা দায়েরপাকুন্দিয়া থানাআলতাফ উদ্দীন, পুলিশ
শনিবার সকালপ্রধান আসামি গ্রেপ্তাররহিমপুর, হোসেনপুররানা, পুলিশ
রোববার দুপুরআদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণকিশোরগঞ্জ আদালতরানা, পুলিশ

ঘটনাটি বর্তমানে পুলিশি তদন্তাধীন রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে।