নিখোঁজের দুই দিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর নুরুল ইসলাম (৭০) নামে এক সার ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কচুয়া বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা নুরুল ইসলামের আকস্মিক মৃত্যু এবং মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিহত নুরুল ইসলাম কচুয়া উপজেলার তুলপাই গ্রামের কারী সাহেব বাড়ির বাসিন্দা। তিনি বহু বছর ধরে কচুয়া বাজারে সার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে সুপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে তিনি প্রতিদিনের মতো নিজ বাড়ি থেকে কচুয়া বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। তবে দিনের পর দিন অতিবাহিত হলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, হয়তো কোনো ব্যক্তিগত কাজে কোথাও গেছেন। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

নিহতের ছোট ছেলে ছানাউল্লাহ জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি বাজারে গিয়ে দেখতে পান তার বাবার দোকান বন্ধ। পাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, নুরুল ইসলাম অসুস্থতার কথা বলে দোকান থেকে চলে গিয়েছিলেন। এরপর তিনি কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, পরিচিতজনদের বাসা এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে তারা কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি পাওয়ার পর পুলিশও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠায়।

এরই মধ্যে শনিবার রাতে কচুয়া থানা থেকে পরিবারের কাছে খবর আসে যে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা এলাকার শ্রীনিবাস পূর্বপাড়া হাইওয়ে সড়কের পূর্ব পাশে একটি বিল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে যান এবং মরদেহটি নুরুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।

ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিষয়তথ্য
নিহতের নামনুরুল ইসলাম (৭০)
পেশাসার ব্যবসায়ী
স্থায়ী ঠিকানাতুলপাই গ্রাম, কচুয়া, চাঁদপুর
নিখোঁজ হওয়ার সময়শুক্রবার সকাল
সর্বশেষ পরিচিত অবস্থানকচুয়া বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
পরিবারের পদক্ষেপকচুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি
মরদেহ উদ্ধারের স্থানশ্রীনিবাস পূর্বপাড়া হাইওয়ে সড়কের পূর্ব পাশের বিল, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ
মরদেহ শনাক্তকরণপরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে
বর্তমান অবস্থাপুলিশি তদন্ত চলমান

নুরুল ইসলামের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কচুয়া বাজারের ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় সার ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সততা ও সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তার মতো একজন পরিচিত ব্যবসায়ীর এমন মৃত্যু স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

অন্যদিকে, নিহতের পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ছেলে ছানাউল্লাহ বলেন, তার বাবার সঙ্গে কারও কোনো পরিচিত শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না। ফলে কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, তা পরিবারের কাছে এখনো রহস্যজনক। তিনি জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান শুরু করে। পরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ এলাকায় উদ্ধার হওয়া মরদেহের তথ্য পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা গিয়ে সেটি শনাক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব দিক গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা থাকলে সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান