টোকিও মেরিনের প্রিমিয়াম ২০২৮ সালের মধ্যে ব্যাপক বাড়বে

আন্তর্জাতিক বীমা বাজারে জাপানের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান টোকিও মেরিন হোল্ডিংস (Tokio Marine Holdings) আগামী কয়েক বছরে তাদের প্রিমিয়ামের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আকর্ষণীয় রিটার্ন বা লভ্যাংশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। মূলত জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস) বাজারে বীমা পলিসির মূল্য বা প্রিমিয়ামের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এই ইতিবাচক ধারায় মূল ভূমিকা পালন করবে। বিখ্যাত আর্থিক গবেষণা ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান মর্নিংস্টার (Morningstar)-এর একটি ইকুইটি অ্যানালিস্ট নোটে এই পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে।

মর্নিংস্টারের তথ্যানুযায়ী, টোকিও মেরিনের নেট আর্নড প্রিমিয়াম (Net Earned Premiums) বা অর্জিত নিট প্রিমিয়ামের পরিমাণ ২০২৫ অর্থ বছরে যেখানে ৩৯.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৬.২৮ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন ছিল, তা ২০২৬ সালের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে ৪১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা courtroom ৬.৫৩ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনে পৌঁছাবে। এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নিট প্রিমিয়ামের পরিমাণ ৪৫.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৭.২০ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন স্পর্শ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মোট রাজস্ব ও কম্বাইন্ড রেশিওর পূর্বাভাস

প্রিমিয়ামের পাশাপাশি টোকিও মেরিন হোল্ডিংসের মোট রাজস্ব বা আয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। মর্নিংস্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব যেখানে ৪৯.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৭.৯ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন ছিল, তা ২০২৮ সালের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৯.১৪ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনে উন্নীত হবে।

বীমা খাতের অন্যতম প্রধান সূচক হলো কম্বাইন্ড রেশিও (Combined Ratio), যা মূলত কোম্পানির দাবি পরিশোধ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের অনুপাত নির্দেশ করে। টোকিও মেরিনের শক্তিশালী মূল্য নির্ধারণী ক্ষমতার কারণে এই সূচকটি বেশ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে এই কম্বাইন্ড রেশিও ৯৫ শতাংশের নিচে এবং আন্তর্জাতিক বা ওভারসিজ বাজারের ক্ষেত্রে তা ৯২ শতাংশের নিচে বজায় থাকবে। অভ্যন্তরীণ বাজারে মোটর বীমা (Motor Insurance) এবং অগ্নি বীমা (Fire Insurance)-র পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত কিছু ব্যবসায়িক লাইনে পলিসির মূল্য বৃদ্ধির ফলেই এটি সম্ভব হবে। এই মূল্য বৃদ্ধি মূলত ক্রমবর্ধমান বীমা দাবির খরচ এবং স্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি বা ক্যাটাস্ট্রফি লসের আর্থিক চাপকে সফলভাবে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে।

শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্ন ও লভ্যাংশ বৃদ্ধি

টোকিও মেরিন হোল্ডিংস ২০২৬ অর্থ বছরে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ বা রিটার্নের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতি শেয়ারের লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড গাইডেন্স ১২ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১.৫৪ মার্কিন ডলার বা ২৪৫ জাপানি ইয়েন নির্ধারণ করেছে। একই সাথে কোম্পানিটি তাদের শেয়ার পুনর্ক্রয় বা শেয়ার বাইব্যাক (Share Buyback)-এর পরিকল্পনা বার্ষিক ভিত্তিতে ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে এর আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪০০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন।

এই লভ্যাংশ এবং শেয়ার পুনর্ক্রয়ের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত কোম্পানির মোট ইল্ড বা রিটার্ন ৫.৮ শতাংশে উন্নীত করবে। মর্নিংস্টারের ধারণা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে শেয়ার পুনর্ক্রয়ের পরিমাণ এই স্তরেই বজায় থাকবে এবং ২০২৯ অর্থ বছর পর্যন্ত ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশের চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক বৃদ্ধির হার (Compound Annual Growth Rate) ৯ শতাংশে বজায় থাকবে।

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের সাথে অংশীদারিত্বের প্রভাব

টোকিও মেরিনের দীর্ঘমেয়াদী আয়ের স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসায়িক সুরক্ষায় ওয়ারেন বাফেটের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (Berkshire Hathaway)-এর সাথে অংশীদারিত্ব বা পার্টনারশিপ একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার পুনর্বীমা চুক্তি বা রেইন্সিউরেন্স অ্যারেঞ্জমেন্টের (Reinsurance Arrangement) মাধ্যমে টোকিও মেরিন চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত বড় ধরনের ঝুঁকিগুলো সফলভাবে স্থানান্তর করতে পারবে।

এই কৌশলগত চুক্তির ফলে কোম্পানির নিজস্ব মূলধনের প্রয়োজনীয়তা বা ক্যাপিটাল রিকোয়ারমেন্টস হ্রাস পাবে। ফলে ঝুঁকি কম থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ বা নতুন কোনো কোম্পানি অধিগ্রহণের (Future Acquisitions) সক্ষমতা ও নমনীয়তা বজায় রাখতে পারবে। একই সাথে এটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আরও বেশি ও আগ্রাসী মূলধন রিটার্ন বা ক্যাপিটাল রিটার্ন নিশ্চিত করতে টোকিও মেরিন হোল্ডিংসকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করবে। (উল্লেখ্য, আর্থিক হিসাবের সুবিধার্থে এখানে প্রতি ১.০০ মার্কিন ডলার সমান ১৫৯.৬৩ জাপানি ইয়েন রূপান্তর হার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে)।