ব্রেকিং নিউজ :
মুক্তবুদ্ধির অগ্রপথিক আবুল ফজলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মরণে জাসদের শ্রদ্ধা সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা, আটক ৩ শিশুকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকাল পুলিশের ব্যারিকেড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: ৬ উপ-পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন হরমুজ প্রণালিতে ফের অশান্তির মেঘ, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চট্টগ্রামে রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বর্ষণ: জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মুক্তবুদ্ধির অগ্রপথিক আবুল ফজলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মরণে জাসদের শ্রদ্ধা সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা, আটক ৩ শিশুকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকাল পুলিশের ব্যারিকেড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: ৬ উপ-পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন হরমুজ প্রণালিতে ফের অশান্তির মেঘ, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চট্টগ্রামে রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বর্ষণ: জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মুক্তবুদ্ধির অগ্রপথিক আবুল ফজলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মরণে জাসদের শ্রদ্ধা সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা, আটক ৩ শিশুকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকাল পুলিশের ব্যারিকেড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: ৬ উপ-পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন হরমুজ প্রণালিতে ফের অশান্তির মেঘ, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চট্টগ্রামে রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বর্ষণ: জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মুক্তবুদ্ধির অগ্রপথিক আবুল ফজলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মরণে জাসদের শ্রদ্ধা সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা, আটক ৩ শিশুকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকাল পুলিশের ব্যারিকেড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: ৬ উপ-পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন হরমুজ প্রণালিতে ফের অশান্তির মেঘ, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চট্টগ্রামে রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বর্ষণ: জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মুক্তবুদ্ধির অগ্রপথিক আবুল ফজলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মরণে জাসদের শ্রদ্ধা সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা, আটক ৩ শিশুকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকাল পুলিশের ব্যারিকেড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: ৬ উপ-পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন হরমুজ প্রণালিতে ফের অশান্তির মেঘ, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চট্টগ্রামে রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বর্ষণ: জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মুক্তবুদ্ধির অগ্রপথিক আবুল ফজলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মরণে জাসদের শ্রদ্ধা সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা, আটক ৩ শিশুকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকাল পুলিশের ব্যারিকেড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: ৬ উপ-পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন হরমুজ প্রণালিতে ফের অশান্তির মেঘ, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চট্টগ্রামে রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বর্ষণ: জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মুক্তবুদ্ধির অগ্রপথিক আবুল ফজলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মরণে জাসদের শ্রদ্ধা সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা, আটক ৩ শিশুকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকাল পুলিশের ব্যারিকেড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: ৬ উপ-পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন হরমুজ প্রণালিতে ফের অশান্তির মেঘ, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চট্টগ্রামে রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বর্ষণ: জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মুক্তবুদ্ধির অগ্রপথিক আবুল ফজলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মরণে জাসদের শ্রদ্ধা সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা, আটক ৩ শিশুকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকাল পুলিশের ব্যারিকেড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: ৬ উপ-পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন হরমুজ প্রণালিতে ফের অশান্তির মেঘ, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চট্টগ্রামে রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বর্ষণ: জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মুক্তবুদ্ধির অগ্রপথিক আবুল ফজলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মরণে জাসদের শ্রদ্ধা সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা, আটক ৩ শিশুকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকাল পুলিশের ব্যারিকেড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: ৬ উপ-পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন হরমুজ প্রণালিতে ফের অশান্তির মেঘ, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চট্টগ্রামে রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বর্ষণ: জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মুক্তবুদ্ধির অগ্রপথিক আবুল ফজলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর স্মরণে জাসদের শ্রদ্ধা সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা, আটক ৩ শিশুকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আটকাল পুলিশের ব্যারিকেড ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: ৬ উপ-পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন হরমুজ প্রণালিতে ফের অশান্তির মেঘ, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চট্টগ্রামে রেকর্ড ভাঙা অতি ভারী বর্ষণ: জোয়ার ও জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন বাংলা ভাষার নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক – অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

দেশ

ইউক্রেনের কারাগারে কামরুল, অপেক্ষায় পরিবার

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ই জুলাই ২০২৬, ৬:৩৪ পিএম

ইউক্রেনের কারাগারে কামরুল, অপেক্ষায় পরিবার

ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বাসিন্দা কামরুল হাসান (৩৮)। দীর্ঘদিনের প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ পরিণত হয়েছে যুদ্ধ, প্রতারণা এবং অনিশ্চয়তায় ঘেরা এক দুঃস্বপ্নে। পরিবারের দাবি, চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নেওয়ার পর একটি দালালচক্র তাঁকে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হতে বাধ্য করে। পরে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে আটক হন। বর্তমানে তিনি ইউক্রেনের একটি কারাগারে বন্দী রয়েছেন। দেশে তাঁর স্ত্রী ও ছয় বছরের কন্যা প্রতিদিন অপেক্ষা করছেন—কবে আবার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি ফিরে আসবেন।

কামরুল হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর ইউনিয়নের লাউরফতেহপুর গ্রামের মৃত হাসেম মুন্সীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী নাজমীন আক্তার এবং মেয়ে তায়েব্যা নূর গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। পরিবারের সব আশা-ভরসার কেন্দ্র ছিলেন কামরুল। তাই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু এখন সেই পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা ঋণের বোঝা, অনিশ্চয়তা এবং প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর সিঙ্গাপুরে কাজ করার পর গত বছর দেশে ফেরেন কামরুল। দেশে ফিরে নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে তিনি রাশিয়ায় কর্মী নিয়োগের একটি বিজ্ঞাপন দেখেন। এরপর ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত এমএসটিসি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যা একটি ওভারসিজ প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছিল।

বিজ্ঞাপনে রাশিয়ার সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে মাসিক ৬০০ থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার বেতনে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আট লাখ টাকার চুক্তিতে তিন মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। প্রশিক্ষণ, ভিসা, কাগজপত্র এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ মোট প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা খরচ করে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রাশিয়ায় যান কামরুল।

স্ত্রী নাজমীন আক্তারের দাবি, এই অর্থের বড় অংশই ধার-দেনা করে সংগ্রহ করতে হয়েছিল। স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে সুদে আড়াই লাখ টাকা, এক আত্মীয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা এবং ঢাকায় থাকা স্বজনদের কাছ থেকে আরও এক লাখ টাকা ধার নেওয়া হয়। বাকি অর্থও বিভিন্ন উৎস থেকে জোগাড় করা হয়েছিল। পরিবারের আশা ছিল, বিদেশে গিয়ে কয়েক মাস কাজ করলেই ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবতা হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রথম কয়েক মাস একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করেন কামরুল। পরে কাজের সন্ধানে মস্কোতে গেলে তিনি দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হন বলে অভিযোগ পরিবারের। নাজমীনের ভাষ্য, ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তাঁর স্বামীর কাছ থেকে আরও পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য এক বছরের চুক্তিপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়।

নাজমীন জানান, চলতি বছরের ৩১ মার্চ স্বামীর সঙ্গে তাঁর শেষবারের মতো মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। সে সময় কামরুল জানান, আগামী ছয় মাস তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। মেয়ের যত্ন নেওয়ার অনুরোধও করেছিলেন তিনি। কারণ জানতে চাইলে বলেন, তাঁদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে পাঠানো হয়েছে এবং যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ভিডিও কলে নাজমীন তাঁর স্বামীর পেছনে সামরিক পোশাক পরা কয়েকজন রুশ সেনার পাশাপাশি আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকেও দেখতে পান। এরপর হঠাৎ করেই সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় দেড় মাস কোনো খবর না পেয়ে পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে থাকে। একসময় তাঁদের আশঙ্কা ছিল, হয়তো কামরুল আর বেঁচে নেই।

অবশেষে গত ১৩ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি গ্রুপে স্বামীর সন্ধান চেয়ে একটি পোস্ট করেন নাজমীন। সেই পোস্টের সূত্র ধরে তিন দিন পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এক বিদেশি ব্যক্তি। তিনি নিজেকে সুইজারল্যান্ডের সাংবাদিক কার্ট পেলডা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, কামরুল জীবিত আছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কামরুল এবং সুমন নামে আরেক বাংলাদেশি অস্ত্রবিহীন অবস্থায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে আটক হন। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় যুদ্ধবন্দী হিসেবে কারাগারে রাখা হয়েছে।

সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় অনাহার, কষ্ট এবং নানা ধরনের নির্যাতনের মধ্যে থাকার পর কামরুল ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক বাংলাদেশি রুশ সৈন্যশিবির থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পালানোর সময়ই তাঁরা ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে আটক হন।

এর পরদিন, ১৭ মে, নাজমীনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ইউক্রেনের একটি কারাগার থেকে ভিডিও কল আসে। কারাগারের এক কমান্ডারের উপস্থিতিতে তিনি স্বামীর সঙ্গে কিছু সময় কথা বলার সুযোগ পান। নাজমীনের দাবি, ওই কর্মকর্তা বারবার জানতে চাইছিলেন কেন কামরুল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল। জবাবে তিনি জানান, তাঁর স্বামী চাকরির আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন এবং প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে তাঁকে আরও জানানো হয়, কামরুলের কাছে কোনো পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বহুবার সতর্ক করেছেন যে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশি শ্রমিকদের প্রতারণার মাধ্যমে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। যুদ্ধ চলমান এলাকায় বৈধ নিয়োগ, কর্মপরিবেশ এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শও দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে কামরুলের দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর পরিবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং বাংলাদেশের কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে কামরুলের পরিচয় যাচাই করে তাঁকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে নাজমীন আক্তার এখনও আশাবাদী। তাঁর বিশ্বাস, একদিন স্বামী ফিরে আসবেন এবং ছোট্ট তায়েব্যা নূর আবার বাবাকে কাছে পাবে। তবে সেই প্রতীক্ষার প্রতিটি দিনই এখন তাঁদের কাছে অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা এবং ঋণের ভারে আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

মন্তব্য