ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা হেফাজতে রাখা আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে সেখান থেকে সরিয়ে মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। বুধবার (২৭ মে) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান মিয়া। তিনি জানান, মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা থেকে সরাসরি জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মহিষটির মালিক ফরিদুজ্জামান স্বরণকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে জনসমাগম বৃদ্ধি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় রাখা হয়। থানা সূত্রে জানা যায়, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই অ্যালবিনো মহিষকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হলে শিশু-কিশোর, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ থানার সামনে ভিড় করতে শুরু করে। অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে থানার প্রধান ফটক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুছ বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মহিষটির মালিক ফরিদুজ্জামান স্বরণ (২৭) ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরার রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহ পর নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত রাবেয়া এগ্রো ফার্ম থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় অ্যালবিনো মহিষটি ক্রয় করেন। ক্রয়ের আগে মহিষটি ওই খামারেই লালন-পালন করা হচ্ছিল।
রাবেয়া এগ্রো ফার্ম সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই মহিষটির নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখেন। নামটি পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পায় এবং সামাজিকভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে মহিষটিকে ঘিরে জনসমাগম ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ২৫ মে মহিষটি নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রাকযোগে জিনজিরার রসুলপুরে আনা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি ঘিরে ভিড় বাড়তে থাকলে প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নেয়।
পরে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ মহিষটিকে জিনজিরার রসুলপুর এলাকা থেকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে আসে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জননিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে পরবর্তীতে এটি জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহিষটি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। প্রশাসন বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
