জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৩:১ পিএম

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দীনের (৫৬) বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলাটি করেন।
অভিযুক্ত আলাউদ্দীন চিলারং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে এর আগের দিন সোমবার দুপুরে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চিলারং গ্রামে। মামলার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বাবা পেশায় দিনমজুর। পরিবারের অসুস্থ বড় মেয়েকে চিকিৎসকের কাছে দেখাতে সোমবার সকালে তিনি দিনাজপুরে যান। একই সময়ে কিশোরীর মা-ও কাজের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। ফলে ওই সময় ১৫ বছর বয়সী কিশোরীটি বাড়িতে একাই ছিল।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন ওই বাড়িতে যান। তিনি কিশোরীকে জানান, পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি প্রয়োজন বলে জানান তিনি। কিশোরী তার কথামতো এনআইডি কার্ডের ফটোকপি দিলে ইউপি সদস্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য জানতে চান।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে আর কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে আলাউদ্দীন ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তিনি কিশোরীর গায়ে হাত দেন এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কিশোরী আত্মরক্ষার জন্য খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। পরে সুযোগ বুঝে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার শুরু করে।
কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দিনাজপুর থেকে কিশোরীর বাবা বাড়িতে ফিরে মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং গলায় আঁচড়ের দাগ দেখতে পান। এরপর তিনি দ্রুত মেয়েকে ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযোগ, তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি হননি এবং উল্টো দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
ঘটনার বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী জানান, কিশোরীর বাবার করা অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার আসামি ইউপি সদস্য আলাউদ্দীনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে, এমন অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি বা সামাজিক সহায়তার সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে কোনো ব্যক্তি যেন অসহায় পরিবার কিংবা শিশু-কিশোরীদের সঙ্গে প্রতারণা বা হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি সহায়তা বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় অভিভাবকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। পুলিশ তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আদালতের কাছে উপস্থাপন করবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
মন্তব্য