জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ২:১৪ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গুতে কিশোরের মৃত্যু, ভর্তি ৪৪
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রিফাত নামে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ হাসপাতালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪৪ জনে পৌঁছেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিফাত ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বাসিন্দা জয়নুদ্দীনের ছেলে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৭ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের ডেঙ্গু সামারির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ১৪ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়েছেন। এ সময়ের মধ্যেই একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ফলে নতুন ভর্তি ও ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যার পার্থক্যের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা পরিস্থিতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ৪৪ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৩১ জন পুরুষ, ১২ জন নারী এবং একজন শিশু রয়েছে। তাদের হাসপাতালের নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর অর্থ, এ বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি অংশকে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং ডেঙ্গুর জটিলতা মোকাবিলায় চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
ডেঙ্গুর অন্যতম গুরুতর জটিলতা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। এ অবস্থায় রোগীর রক্তচাপ দ্রুত কমে যেতে পারে এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার সময়ও রোগীর অবস্থা হঠাৎ খারাপ হতে পারে। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জ্বর কমলেই বিপদ কেটে গেছে—এমন ধারণা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড সূত্র জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং রোগীর চাপ আরও বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে বলে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর মোট ভর্তি সংখ্যা ৪৫৬ ছাড়িয়ে যাওয়া এবং বর্তমানে ৪৪ জনের চিকিৎসাধীন থাকা রোগটির বিস্তারের বিষয়টি সামনে আনছে। নতুন রোগী শনাক্ত ও ভর্তি অব্যাহত থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য