জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ২:৫ পিএম

এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। আজ বুধবার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের আদেশ অনুযায়ী, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভা করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল এনসিপি। একই সময় ও একই এলাকায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই পক্ষের একই সময়ে কর্মসূচি ঘিরে শহরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। কর্মসূচিগুলোতে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতির আশঙ্কা থাকায় সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, দুই রাজনৈতিক পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে যেকোনো সময় সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি, জনসাধারণের শান্তি বিঘ্নিত হওয়া এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
১৪৪ ধারার আওতায় হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসভা, মাইকিং, মিছিল, স্লোগান, পিকেটিং এবং যেকোনো ধরনের এমন কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। কোনো যন্ত্রের মাধ্যমে বিকট শব্দ সৃষ্টি করাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন কিংবা লোকসমাগমের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার সুযোগ থাকছে না।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আগের দিনের একটি সংঘর্ষের ঘটনা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহরে হামলা এবং দলটির নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ হামলার জন্য এনসিপির পক্ষ থেকে বিএনপিকে দায়ী করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির পক্ষের বক্তব্য মূল সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করে এনসিপি। মিছিলকে কেন্দ্র করে সেখানে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরপর এসব ঘটনায় শহরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় হামলা ও সংঘর্ষের প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। পরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি ও জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা আসে।
একই স্থান ও সময়ে দুই পক্ষের কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ প্রশাসনের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষ করে আগের দিনের সংঘর্ষের পর বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ অবস্থায় সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক জমায়েত ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।
১৪৪ ধারা জারির ফলে একদিকে যেমন দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। এখন পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য