জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ২:৩৭ পিএম

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গণপরিবহন খাতকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে গণপরিবহন চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) কার্যক্রম। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগে এবং জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সার্বিক সহযোগিতায় এ ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যাদি নিশ্চিত করা হয়।
জেলা পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চিকিৎসকের পরীক্ষায় কোনো চালক, সুপারভাইজার কিংবা হেলপারের শরীরে মাদকসেবনের প্রমাণ বা আলামত পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হবে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি হাসপাতালে ডোপ টেস্টের এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে জেলার অভ্যন্তরে এবং দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী প্রধান পরিবহন সংস্থাগুলোর শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।
সড়কে যাত্রীসেবা প্রদানকারী আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার উল্লেখযোগ্য পরিবহন সংস্থাগুলোর তালিকা নিচে প্রদান করা হলো:
রয়েল এক্সপ্রেস
পূর্বাশা পরিবহন
জে আর পরিবহন
চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স
দর্শনা ডিলাক্স
গোল্ডেন লাইন
জননী পরিবহন
নদীয়া পরিবহন
সাথী পরিবহন
রেখা পরিবহন
মামুন পরিবহন
শামীম এন্টারপ্রাইজ
নিউ মর্ডাণ পরিবহন
সৌদিয়া পরিবহন
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)
নিরাপদ ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দূরপাল্লার ও স্থানীয় গণপরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা জারি করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ:
বাধ্যতামূলক চালক পরিবর্তন: দীর্ঘ যাত্রাপথে নির্দিষ্ট সময় পরপর চালক পরিবর্তন করার বিষয়টি পরিবহন মালিকদের নিশ্চিত করতে হবে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: একজন চালককে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দিয়ে একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না।
শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা: গাড়ি চালানোর পূর্বে চালকের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা যাচাই করে যানবাহন পরিচালনার অনুমতি দিতে হবে।
অসুস্থ ও ক্লান্ত চালক নিষিদ্ধ: মাদকাসক্ত, অসুস্থ বা অতিরিক্ত ক্লান্ত অবস্থায় কোনো অবস্থায়ই চালককে স্টিয়ারিংয়ে বসানো যাবে না।
আইন মান্যকরণ: গতিসীমা লঙ্ঘন এবং বেপরোয়া ড্রাইভিং পুরোপুরি পরিহার করে ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিধিমালার শতভাগ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
নিয়মিত তদারকি: পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দকে নিজস্ব উদ্যোগে নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যেতে হবে।
জেলা পুলিশের বক্তব্য:
“মাদকাসক্ত অবস্থায় যানবাহন পরিচালনা করা সরাসরি জনজীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি ও ঝুঁকিপূর্ণ। সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এই ডোপ টেস্ট কার্যক্রম এবং পরিবহন খাতের নজরদারি ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ জেলার সকল পরিবহন মালিক, শ্রমিক সংগঠন, চালক ও হেলপারদের মাদকমুক্ত থেকে দায়িত্বশীলতার সাথে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে প্রশাসন।
মন্তব্য