খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই মে ২০২৬, ১:০ এএম

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ৩২ লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু কেনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা সমালোচনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার ছেলে সারিয়ান চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পারিবারিক কোরবানির প্রচলন ও গরু ক্রয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে সারিয়ান চৌধুরী উল্লেখ করেন, তাদের পরিবারের কোরবানির কার্যক্রম প্রতি বছর নির্দিষ্টভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে। তিনি লেখেন, তার বাবা পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রতি বছর পারিবারিক কোরবানি এবং হাজী বসির উল্যাহ চৌধুরী এতিমখানা–মাদ্রাসার জন্য ৬ থেকে ৮টি গরু ক্রয় করে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে চলতি বছরও তারা মোট ৬টি গরু ক্রয় করেছেন।
তিনি আরও জানান, এসব গরু পারিবারিক কোরবানি ছাড়াও এতিমখানা–মাদ্রাসার প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহৃত হয়। পোস্টে তিনি দাবি করেন, কোরবানির মাধ্যমে গরিব মানুষের প্রাপ্য অংশ তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে পরিবারটি বিশ্বাস করে।
সারিয়ান চৌধুরী তার পোস্টে সমালোচনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার পরিবারকে উদ্দেশ্যমূলক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হলেও একই ধরনের সমালোচনা অব্যাহত থাকবে কি না। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “অযৌক্তিক মিথ্যাচার” করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত এবং কোরবানির পশু ক্রয় সেই ধারাবাহিক কাজের অংশ। তিনি তার পোস্টে আল্লাহর ওপর আস্থা প্রকাশ করে লেখেন, সবকিছুই আল্লাহ জানেন এবং তিনিই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।
এর আগে সম্প্রতি হাটে গিয়ে ৩২ লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু কেনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তার ছেলে সারিয়ান চৌধুরী ফেসবুকে ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন।
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশে উচ্চমূল্যের গরু কেনাবেচা এবং কোরবানির প্রস্তুতি প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি করে, যার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মন্তব্য