বুধবার (২০ মে) বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ফাইনালটি শুরু থেকেই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ। গ্যালারিতে দর্শকদের ঢাক-ঢোলের শব্দ ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে ম্যাচের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। মাঠের এক পাশে মোহামেডানের প্রয়াত কিংবদন্তি সমর্থক আতাউর রহমান ওরফে আতা ভাইয়ের বড় একটি প্রতিকৃতি প্রদর্শিত হয়, যা ম্যাচের আবহে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
ম্যাচের শুরুতেই মোহামেডান এগিয়ে যায়। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন তাদের উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফফরভ। এতে তারা ১-০ ব্যবধানে লিড নেয়।
তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস দ্রুতই জবাব দেয়। ৮ মিনিটে তারা পেনাল্টি পায় এবং ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ড্যারিয়েলটন গোমেজ স্পট কিক থেকে গোল করে সমতা ফেরান। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
২৩ মিনিটে মোহামেডান আবারও পেনাল্টি পায়। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন মোজাফফরভ। তার শট বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন, ফলে ম্যাচে সমতা বজায় থাকে।
চাপ ধরে রেখে ৩৫ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় মোহামেডান। ডান দিক থেকে আসা ক্রস থেকে সৌরভ নিখুঁত প্লেসিংয়ে গোল করেন। প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে বসুন্ধরা কিংস আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে এবং শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে। এর ফল আসে ৫০ মিনিটে, যখন ড্যারিয়েলটন গোমেজ তার দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে আবারও সমতা ফেরান। স্কোরলাইন হয় ২-২।
এরপর ম্যাচে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলতে থাকে। উভয় দলই জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু ৭৫ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন ড্যারিয়েলটন গোমেজ। তিনি তার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং বসুন্ধরা কিংসকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ড্যারিয়েলটন গোমেজ টুর্নামেন্টে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১২-তে উন্নীত করেন। চলতি লিগ মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৭, যা তার ধারাবাহিক ফর্ম ও আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রমাণ।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বসুন্ধরা কিংস। এই জয়ের মাধ্যমে তারা টানা তৃতীয়বারের মতো ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিতে নেয় এবং দেশের ঘরোয়া ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করে।
পুরো ম্যাচে একাধিকবার পিছিয়ে পড়েও ফিরে আসা, পেনাল্টি মিস, গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং হ্যাটট্রিক করা ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে এই ফাইনালটি একটি উচ্চমানের ও স্মরণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়।
