আইপিএলে রেকর্ড ভাঙা রান তাড়ায় পাঞ্জাব কিংসের জয়

আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে পাঞ্জাব কিংস। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক দিল্লি ক্যাপিটালসের দেওয়া ২৬৫ রানের লক্ষ্য তারা ৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে পূর্ণ করে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে পাঞ্জাব কিংস নিজেদের আগের বিশ্বরেকর্ডও ভেঙে নতুন করে ইতিহাসে নাম লেখায়।

ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস ২ উইকেটে ২৬৪ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। ইনিংসের মূল ভিত্তি গড়ে তোলেন ওপেনার ও উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লোকেশ রাহুল, যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেন এবং অপরাজিত ১৫২ রান করেন। তার এই ইনিংস আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

রাহুলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নীতীশ রানা। তিনি বড় ইনিংসের দিকে এগোলেও সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৯ রান দূরে আউট হন। এর আগে আইপিএলে ১৫০ রানের বেশি ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল মাত্র দুজনের—ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (১৫৮*) এবং ক্রিস গেইল (১৭৫*)। তবে তাদের ইনিংসের বিপরীতে রাহুলের ইনিংস দলকে জয় এনে দিতে পারেনি।

রান তাড়ায় নেমে পাঞ্জাব কিংসের দুই ওপেনার প্রভসিমরান সিং ও প্রিয়াংশ আর্য শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে তারা ১১৬ রান তোলে, যা আইপিএল ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে স্কোর। তাদের দ্রুতগতির ব্যাটিং ম্যাচের গতিপথ শুরুতেই বদলে দেয় এবং বড় লক্ষ্য তাড়ার চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনে।

এরপর দ্রুত তিনটি উইকেট হারালেও পাঞ্জাব কিংস ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। তিনি ৩৬ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দেন। তার ইনিংস ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে কাজ করে।

এই জয় পাঞ্জাব কিংসের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২৬২ রান তাড়া করে তারা যে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল, এবার ২৬৫ রান তাড়া করে সেই রেকর্ড আরও উন্নত করল দলটি।

ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য বড় ধাক্কা ছিল তাদের ফিল্ডিং ব্যর্থতা। অন্তত পাঁচটি ক্যাচ মিস হয়, যা ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এছাড়া পাঞ্জাব ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ক্যাচ ধরতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার লুঙ্গি এনগিডি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে মাঠ থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অনুপস্থিতি দিল্লির বোলিং আক্রমণকে দুর্বল করে দেয়।

এই জয়ের মাধ্যমে চলমান আইপিএলে পাঞ্জাব কিংস তাদের অজেয় ধারাও বজায় রাখে। ৭ ম্যাচে ৬ জয় এবং একটি পরিত্যক্ত ম্যাচসহ তারা ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। মাত্র একটি জয় পেলেই তারা প্লে-অফ নিশ্চিত করবে।

সামগ্রিকভাবে ম্যাচটি আইপিএল ইতিহাসে এক উচ্চ রানের, রেকর্ডভাঙা এবং নাটকীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে, যেখানে ব্যাটিং আধিপত্য, ফিল্ডিং ব্যর্থতা এবং একের পর এক রেকর্ড ভাঙার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় নতুন ইতিহাস।