জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৩৬ পিএম

রাজধানীর সবুজবাগ থানার মাদারটেক এলাকায় এক নারীর খণ্ডিত মরদেহের অংশ উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে বাগানবাড়ি কালভার্ট–সংলগ্ন খালপাড় থেকে একটি পলিথিনের ভেতর অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীর বিচ্ছিন্ন মাথা ও শরীর থেকে আলাদা করা দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি সামনে আসার পরপরই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহত নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একযোগে কাজ শুরু করেছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা খালের পাশে জমে থাকা ময়লার স্তূপে একটি সন্দেহজনক পলিথিনের বস্তা দেখতে পান। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তাঁরা সবুজবাগ থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পলিথিন খুলে এক নারীর বিচ্ছিন্ন মাথা ও শরীর থেকে আলাদা করা দুই হাত উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলটি দ্রুত ঘিরে ফেলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়।
সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম সিদ্দিক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি অন্য কোনো স্থানে সংঘটিত হয়েছে। পরে মরদেহের অংশগুলো শনাক্তকরণ কঠিন করে তুলতে কিংবা প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে সেগুলো ঘটনাস্থলে এনে ফেলে রাখা হতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত স্থান, সময়, উদ্দেশ্য কিংবা এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
খবর পেয়ে সিআইডির অপরাধ শনাক্তকরণ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। উদ্ধার হওয়া হাত থেকে আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছে, যাতে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার এবং অন্যান্য সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ফরেনসিক বিশ্লেষণ হত্যাকাণ্ডের ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ঘটনার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
পুলিশ উদ্ধার হওয়া মরদেহের অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ, মৃত্যুর আনুমানিক সময় এবং মরদেহ খণ্ডিত করার পদ্ধতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব তথ্য তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে নিহত নারীর দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারে আশপাশের খাল, ড্রেন এবং সম্ভাব্য অন্যান্য স্থানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছেন এবং ঘটনার সময় সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনের চলাচল ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য সংগ্রহ এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় নিখোঁজ হওয়া নারীদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিচয় নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পরিচয় জানা গেলে তাঁর পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত যোগাযোগ, সাম্প্রতিক চলাফেরা এবং সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হবে। সেসব তথ্যের ভিত্তিতেই হত্যার উদ্দেশ্য, ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা অনেকটাই সহজ হয়ে ওঠে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য