চাঁদপুরের বলিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু

চাঁদপুর সদর উপজেলায় মাদকের প্রয়োজনীয় অর্থ না পেয়ে জান্নাত বেগম নামের ৪৫ বছর বয়সী এক মাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর নিজের ছেলের বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের বড় ছেলে মো. রাকিবকে আটক করেছে পুলিশ। গত রবিবার গভীর রাতে চাঁদপুর সদর উপজেলার বলিয়া ইউনিয়নের বলিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় সহায়তায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশ অভিযুক্ত রাকিবকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। থানা হেফাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত রাকিব নিজের মাকে হত্যার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

নিহত জান্নাত বেগমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর স্বামী আব্বাস খান দ্বিতীয় বিবাহ সম্পন্ন করে বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে জান্নাত বেগমের সঙ্গে তাঁর স্বামীর কোনো ধরনের যোগাযোগ বা পারিবারিক সম্পর্ক ছিল না। এই পরিস্থিতিতে জান্নাত বেগম তাঁর সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। তাঁর বড় ছেলে মো. রাকিব দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করার জন্য রাকিব প্রায়শই তাঁর মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। ঘটনার রাতেও রাকিব মাদকের টাকা দাবি করলে জান্নাত বেগম তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে তীব্র ক্ষিপ্ত হয়ে রাকিব ঘরে থাকা কাঠের টুকরো বা লাঠি দিয়ে মায়ের মাথায় সজোরে আঘাত করেন এবং ঘটনার পরপরই সেখান থেকে পালিয়ে যান। মাথার গুরুতর আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই জান্নাত বেগমের মৃত্যু হয়।

চাঁদপুরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ, পারিবারিক প্রেক্ষাপট এবং আইনি পদক্ষেপসমূহ নিচে একটি সুনির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

হত্যাকাণ্ডের মূল সূচক ও বিবরণীসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার স্থানবলিয়া গ্রাম, বলিয়া ইউনিয়ন, চাঁদপুর সদর উপজেলা
নিহত নারীর নাম ও বয়সজান্নাত বেগম (৪৫ বছর)
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ও বয়সমো. রাকিব (২২ বছর, নিহতের বড় ছেলে)
** can বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়কাল**রবিবার গভীর রাত (১৮ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্ববর্তী রাত)
হত্যার মূল কারণ ও ধরণমাদকের টাকা না পেয়ে কাঠের টুকরো বা লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত
মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তানিহতের ভাই ইলিয়াস খান (বাদী) এবং উপ-পরিদর্শক আওলাদ হোসেন
আইনগত পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থামামলা দায়ের, লাশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং অভিযুক্ত রাকিব আটক

নিহতের ছোট ছেলে রিফাতের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বড় ভাই রাকিব একটি ভারী লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করার কারণেই তাঁদের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করার পর রাতের আঁধারে পালিয়ে গেলেও পরদিন সোমবার সকালে রাকিব পুনরায় বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে এসে তিনি নিজের অপরাধ আড়াল করার উদ্দেশ্যে মায়ের স্বাভাবিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে নাটক সাজান এবং চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা যখন জান্নাত বেগমের মরদেহটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তাঁরা মাথার পেছনে একটি গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এতে পরিবারের সদস্যদের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ সেখান থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। একই সঙ্গে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত বড় ছেলে রাকিব এবং তাঁর ছোট ভাই রিফাতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতের ভাই ইলিয়াস খান এবং সাধারণ গ্রামবাসীরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই ইলিয়াস খান বাদী হয়ে একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তভার অর্পণ করা হয়েছে থানার উপ-পরিদর্শক আওলাদ হোসেনের ওপর। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত রাকিবকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও নথিপত্র প্রস্তুত শেষে তাকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হবে। এছাড়া জান্নাত বেগমের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সোমবার বিকেলেই তাঁর মরদেহটি দাফনের জন্য পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে পুলিশ।