সাতক্ষীরার সদর উপজেলায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ভোমরা ইউনিয়নের লহ্মীদাড়ী এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত তাছলিমা খাতুন (৩৮) সদর উপজেলার উত্তর বহেরা গ্রামের নূরুজ্জামানের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন (৪২) লহ্মীদাড়ী গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে এবং ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসারে কলহ চলছিল।
নিহতের মেয়ে সাদিয়া খাতুন জানায়, তার বাবা ও মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঝগড়ার সময় তার বাবা একাধিকবার ছুরি দিয়ে মাকে হত্যার হুমকি দিত। ঘটনার রাতে বাবা পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনি এসে মাকে ডেকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর অস্বাভাবিক শব্দ শোনা গেলে সে বের হওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু দেখে ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। তখনই তার সন্দেহ হয় যে বড় ধরনের কিছু ঘটে গেছে এবং সে নিশ্চিত হয় যে তার মাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের বাবা নূরুজ্জামান অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। টাকা দিলে কিছুদিন শান্ত থাকত, আবারও নির্যাতন শুরু হতো। তিনি আরও বলেন, ঘটনার রাতে তাকে ফোনে জানানো হয় যে তার মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয়দের ধারণা, পারিবারিক কলহ, আর্থিক চাপ ও দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রধান কারণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | তাছলিমা খাতুন |
| বয়স | ৩৮ বছর |
| গর্ভাবস্থা | পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা |
| স্বামীর নাম | সাদ্দাম হোসেন |
| ঘটনার স্থান | লহ্মীদাড়ী, ভোমরা ইউনিয়ন, সাতক্ষীরা সদর |
| ঘটনার সময় | শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা |
| অভিযোগ | পারিবারিক কলহ ও যৌতুক নির্যাতনের জেরে হত্যা |
| বর্তমান অবস্থা | মরদেহ ময়নাতদন্তাধীন, তদন্ত চলমান |
এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় সমাজে নারী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা এবং আইনি সুরক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধকে সহিংস পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সামাজিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্মম ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
