জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৬:৪২ পিএম

দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নামছে বাংলাদেশ। আসন্ন ১৫তম দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) চ্যাম্পিয়নশিপের ড্রয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ জায়গা পেয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান।
অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। শনিবার (১ আগস্ট) ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠানে গ্রুপ বিন্যাস চূড়ান্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে সাফের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাজী সালাহউদ্দিনও, যিনি একই দিনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরও একবার সাফের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
সাফের এবারের আসর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে আয়োজিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় আর ট্রফি হাতে তুলতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশে বসবে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এবার ভালো ফল করার প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ দল। দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের মধ্যে তাই শুরু থেকেই বাড়তি উচ্ছ্বাস রয়েছে।
তবে এবারের ড্রয়ে একটি অনিশ্চয়তাও রয়েছে। সাফের সদস্য দেশ সাতটি হলেও ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে নেপালকে প্রাথমিকভাবে ড্রয়ে রাখা হয়নি। নেপাল বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিফার নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। সাফ জানিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নেপাল যদি নিষেধাজ্ঞামুক্ত হতে পারে, তাহলে তারা এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
নেপাল অংশগ্রহণের অনুমতি পেলে প্রতিযোগিতার কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। আয়োজক বাংলাদেশকে তুলনামূলক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে নেপালকে ‘এ’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সাফ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে পরিচিত। ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো এই প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নেয়। প্রতিটি আসরেই আঞ্চলিক ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের পাশাপাশি দলগুলোর উন্নতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাইয়ের বড় মঞ্চ হয়ে ওঠে এই টুর্নামেন্ট।
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সাফ শিরোপার গুরুত্ব আলাদা। ২০০৩ সালের পর বেশ কয়েকবার ফাইনাল ও শেষ চার পর্যন্ত পৌঁছালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ধরা দেয়নি। এবার ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থনকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চায় বাংলাদেশ।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুযায়ী গ্রুপ বিন্যাস:
| গ্রুপ | দল |
|---|---|
| ‘এ’ গ্রুপ | বাংলাদেশ |
| ‘এ’ গ্রুপ | শ্রীলঙ্কা |
| ‘এ’ গ্রুপ | ভুটান |
| ‘বি’ গ্রুপ | ভারত |
| ‘বি’ গ্রুপ | মালদ্বীপ |
| ‘বি’ গ্রুপ | পাকিস্তান |
টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে দলগুলোর প্রস্তুতি, খেলোয়াড় নির্বাচন এবং কৌশল নির্ধারণ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই আসরে বাংলাদেশ কতটা সফল হতে পারে, সেটিই এখন সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
মন্তব্য