জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম

দেশে হাম পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ৮৫ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলমান সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
শনিবার (১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৫১ জন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৩১০ জনে।
এদিকে, গত এক দিনে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১২১ জন। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ১৮০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত মোট এক লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ সাত হাজার ৩৬৭ জন। এতে বোঝা যায়, অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৪৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মোট ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে হাম গুরুতর নিউমোনিয়া, অপুষ্টিজনিত জটিলতা এবং অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নাগরিকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার পাশাপাশি হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, সংক্রমণের হার কিছু এলাকায় এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, টিকাদান নিশ্চিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে হাম প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মন্তব্য