খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৮:২৪ পিএম

চাঁদপুরের কচুয়ায় ফাতেমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের পর ওই ঘরে থাকা মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে তারা। রোববার (২৮ জুন) রাতে উপজেলার বেরকোটা গ্রামে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় ওই প্রবীণ নারী বাড়িতে সম্পূর্ণ একাই ছিলেন বলে জানা গেছে। নির্জনতার সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা এই নৃশংসতা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত ফাতেমা বেগম বেরকোটা গ্রামের মিয়াজী বাড়ির মৃত সাদেক মিয়াজীর স্ত্রী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাঁর স্বামী সাবেক পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি এই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একই গ্রামের ইয়াসিন (১৮) নামে এক তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ চোর বা ছিনতাইকারী চক্র ফাতেমা বেগমের ঘরে প্রবেশ করে। তারা আলমারি ও ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্র ভেঙে মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম টের পেয়ে যান এবং তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলার চেষ্টা করেন। চোরদের চিনে ফেলায় এবং তাদের কাজে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দুর্বৃত্তরা। নিজেদের বাঁচাতে তারা ওই অসহায় বৃদ্ধার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং গলায় আঘাত করে নিশ্চিত মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা খোলা দেখে ভেতরে যান এবং ফাতেমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র ছড়ানো-ছিটানো ছিল, যা দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় যে সেখানে বড় ধরনের লুটপাট চালানো হয়েছে। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও আঘাতের তীব্রতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
ওসি আরও জানান, চুরির উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ইয়াসিন নামে এক তরুণকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে এবং তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। শান্ত এই গ্রামে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মন্তব্য