বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমাগত বিস্তৃত হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে ডলারসহ প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার দর পরিবর্তন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আমদানি–রপ্তানি নির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। ১৬ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বিভিন্ন মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় হার প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবারের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় উভয় হারই ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয় হার ১৪৩ টাকা ৭৪ পয়সা এবং বিক্রয় হার ১৪৩ টাকা ৭৫ পয়সা। ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দর তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক লেনদেনে ইউরোপীয় বাজারের গুরুত্বকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মুদ্রা যেমন সৌদি রিয়াল প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানি ইয়েন, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার ও কানাডিয়ান ডলারের মতো অন্যান্য মুদ্রার দরও স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার এই স্থিতিশীলতা আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
আজকের মুদ্রার বিনিময় হার (১৬ মে ২০২৬)
| মুদ্রার নাম | ক্রয় (টাকা) | বিক্রয় (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২.৭৫ | ১২২.৭৫ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং | ১৬৫.৯৮ | ১৬৬.০০ |
| ইউরো | ১৪৩.৭৪ | ১৪৩.৭৫ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৮ | ০.৭৮ |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৯.০৯ | ৮৯.১০ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.৪১ | ৯৬.৪৭ |
| কানাডিয়ান ডলার | ৮৯.৫৩ | ৮৯.৫৭ |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৮ | ১.২৮ |
| সৌদি রিয়াল | ৩২.৫৫ | ৩২.৫৬ |
দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হার সরাসরি আমদানি ব্যয়, জ্বালানি তেল আমদানি, বিদেশি ঋণ পরিশোধ এবং রপ্তানি আয়ের হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
অন্যদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ফলে সৌদি রিয়াল, ইউরোপীয় ইউরো ও মার্কিন ডলারের ওঠানামা দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য, বৈশ্বিক সুদের হার এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার দর সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিয়মিত বিনিময় হার পর্যবেক্ষণ করা আমদানিকারক ও প্রবাসী পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
