ইরানি নেতাদের ধরতে পুরস্কার ঘোষণা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান, কার্যক্রম বা যোগাযোগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে সর্বোচ্চ দশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত দশজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনী ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম শক্তিশালী সামরিক সংগঠন হিসেবে বিবেচিত। বাহিনীটি সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এবং দেশটির শিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র কাঠামোর নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্প্রতি ইরানের নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হন তার পুত্র মোজতবা খামেনি। এই পরিবর্তনের পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা এখনো প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি। তবে তিনি সম্প্রতি একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে নেতৃত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিভিন্ন সূত্রের ধারণা, ওই সামরিক অভিযানে তিনি আহত হয়েছিলেন।

মার্কিন প্রশাসন শুধু মোজতবা খামেনির বিষয়েই নয়, ইরানের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সম্পর্কেও তথ্য জানতে চেয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান আলী লারিজানি, গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এছাড়া বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কয়েকজন কমান্ডার ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

একটি যাচাইকৃত দৃশ্যচিত্রে দেখা গেছে, আলী লারিজানি তেহরানে একটি সমাবেশে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের দাবি, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে গোপন স্থানে অবস্থান করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে থাকে এবং সেই বাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, সংগঠিত ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ।

নিচে ঘোষণায় আলোচিত কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—

নামপদবিপুরস্কারের সম্ভাব্য পরিমাণ
মোজতবা খামেনিইরানের সর্বোচ্চ নেতাসর্বোচ্চ দশ মিলিয়ন ডলার
আলী লারিজানিনিরাপত্তা বিষয়ক প্রধানসর্বোচ্চ দশ মিলিয়ন ডলার
ইসমাইল খাতিবগোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রীসর্বোচ্চ দশ মিলিয়ন ডলার
এস্কান্দার মোমেনিস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসর্বোচ্চ দশ মিলিয়ন ডলার

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এই বাহিনী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা করে এবং মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।

অন্যদিকে ইরান এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের যুক্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করে থাকে।