খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুন ২০২৬, ২:৬ পিএম

কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় দশ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার একমাত্র আসামি আশাদুল ইসলামকে গণপিটুনি দিয়েছে। গণপিটুনিতে গুরুতর আহত ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং ভুক্তভোগী শিশু—উভয়কেই বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহার এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সকাল আনুমানিক দশটার দিকে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা বত্রিশ বছর বয়সী আশাদুল ইসলাম ওই ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যায়। নির্জন ওই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়ার পর শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। পরবর্তীতে শিশুটির কাছ থেকে এবং চারপাশের পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে উত্তেজিত জনতা আশাদুল ইসলামকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেওয়া শুরু করে। এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ উত্তেজিত জনতার হাত থেকে আশাদুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে গত রোববার রাত আনুমানিক আটটার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটির পিতা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আশাদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
| বিবরণের বিষয় | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| ভুক্তভোগীর বিবরণ | ১০ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা |
| অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ও বয়স | আশাদুল ইসলাম (৩২ বছর) |
| ঘটনার সময় ও স্থান | গত রোববার সকাল ১০টা, স্থানীয় একটি বিদ্যালয় |
| মামলা দায়েরের সময় | গত রোববার রাত ৮টা |
| মামলার বাদী | ভুক্তভোগী শিশুটির পিতা |
| মামলার একমাত্র আসামি | আশাদুল ইসলাম (গ্রেপ্তারকৃত) |
| বর্তমান অবস্থান (উভয় পক্ষ) | কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল |
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন চিকিৎসাধীন দুইজনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিশুটির প্রয়োজনীয় সব ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তেজিত জনতার মারধরের শিকার অভিযুক্ত আশাদুল ইসলামকেও একই হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় ভর্তি রাখা হয়েছে। গণপিটুনির কারণে তার শারীরিক আঘাত বেশ গুরুতর বলে চিকিৎসা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার রাতেই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি আশাদুল ইসলামকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং সুস্থ হওয়ার পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে। পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া বজায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
মন্তব্য