রাজধানীর তেজগাঁও, মিরপুর ও গুলশান এলাকায় গত দুই দিনে পৃথক ধারাবাহিক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট একশত দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অধীনে বিভিন্ন থানায় পরিচালিত অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়। একই সময়ে মিরপুর ও গুলশান থানার এলাকায় পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে আরও ব্যক্তিদের আটক করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অভিযান সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় একযোগে কার্যক্রম চালানো হয়।
ডিএমপি কর্তৃক প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানাসহ বিভিন্ন উপ-অঞ্চলে অভিযান চালানো হয়। এতে তেজগাঁও থানা এলাকায় পাঁচজন, শেরেবাংলা নগরে ছয়জন, মোহাম্মদপুরে ষোলজন, আদাবরে সাতজন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় আটজন এবং হাতিরঝিল থানা এলাকায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার পর্যন্ত এসব অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে।
একই সময়ে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মিরপুর মডেল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে মোট একত্রিশজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া শুক্রবার গুলশান থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও ত্রিশজনকে আটক করা হয়।
নিচে অঞ্চলভিত্তিক গ্রেপ্তারের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—
অঞ্চল
গ্রেপ্তার সংখ্যা
তেজগাঁও বিভাগ (মোট)
৪৯
মিরপুর মডেল থানা এলাকা
৩১
গুলশান থানা এলাকা
৩০
মোট
১১০
অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনা। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
তেজগাঁও বিভাগের অধীন বিভিন্ন থানায় একাধিক পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরেবাংলা নগর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এবং হাতিরঝিল এলাকায় পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ও অভিযোগভুক্ত ব্যক্তিদের আটক করা হয়। একইভাবে মিরপুর ও গুলশান এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও পরিচালনা করা হবে।
মন্তব্য