,

ইমিগ্রেশন ঘাটতি দিয়ে বিদেশ যাত্রার জালিয়াতি, কোটি টাকার সিন্ডিকেট

বাংলাদেশে সাধারণ মানুষকে মালয়েশিয়ায় চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা করছে একটি সিন্ডিকেট। নথি অনুসারে নকল ট্রেড লাইসেন্স, ভুয়া ব্যাংক সলভেন্সি ও জাল আইডি মুহূর্তেই ‘বৈধ’ হয়ে যায় ইমিগ্রেশন কাউন্টারে। বোর্ডিং পাসে থাকা কলমের দাগ, ‘এসএল’, ‘এসএস-ওকে’, ‘অপস-ওকে’ কোড এবং স্বাক্ষরকে ব্যবহার করে সিন্ডিকেট দেশীয় যাত্রীদের বৈধতার ছদ্মছবি দেখিয়ে বিদেশ পাঠাচ্ছে।

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা সম্রাট মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। মাঠপর্যায় দালাল চক্র ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো তার নির্দেশে কাজ করে। এয়ার ক্লাউড ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের এমডি মো. ফারুক শেখ নকল কাগজপত্র তৈরি, টিকিট কাটা এবং যাত্রী প্রেরণ সব দেখাশোনা করেন।

চক্রটি সাধারণত গ্রামাঞ্চলের সরল মানুষদের টার্গেট করে। প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর নামে ৩ থেকে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেয়া হয়। তবে যাত্রীরা মালয়েশিয়ায় গিয়ে আটক, বেতন না পাওয়া বা ফেরত আসার মতো বিপাকে পড়েন। নড়াইলের রতিন শিকদার তিনবার মালয়েশিয়া গিয়েও ফিরে এসেছেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, এসপি সম্রাট পদ বদলি হলেও আগের ক্ষমতা বজায় রেখে দৈনিক ৫০ হাজার টাকা করে শতাধিক যাত্রীকে অবৈধ ছাড়পত্র দিচ্ছেন। ফারুক শেখও একইভাবে নকল কাগজ ৮০–৮৫ হাজার টাকায় করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান জানিয়েছেন, বৈধভাবে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ হলে এই ধরনের জালিয়াতি বাড়ে। দক্ষ কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি ছাড়া এটি বন্ধ করা কঠিন।

এসপি সম্রাট ও ফারুক শেখ গণমাধ্যমকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

টিএসএন

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।