কড়াইল অগ্নিকাণ্ড তদন্তে নতুন কমিটি

ঢাকার কড়াইল বস্তিতে সম্প্রতি সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নেওয়া যেতে পারে এমন পদক্ষেপ সম্পর্কিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “কমিটি অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করবে এবং প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও সাক্ষ্য গ্রহণ করবে। তদন্ত প্রতিবেদন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণ করা হবে।”

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মো. মামুনুর রশিদকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:

পদবিনামদায়িত্ব / সংস্থা
সহকারী পরিচালককাজী নজমুজ্জামানফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স
উপ-সহকারী পরিচালকঅতীশ চাকমাঢাকা জোন-২
সিনিয়র স্টেশন অফিসারমো. নাজিম উদ্দিনতেজগাঁও স্টেশন
ওয়্যার হাউস ইনস্পেক্টরমো. সোহরাব হোসেনঢাকা-২৩ ওয়্যারহাউস

তদন্ত কমিটির কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:

  1. অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ নির্ধারণ।

  2. ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও প্রভাব মূল্যায়ন।

  3. দুর্ঘটনায় জড়িত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিতকরণ।

  4. ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ সুপারিশ।

  5. জরুরি সেবার কার্যকারিতা ও প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন।

কড়াইল বস্তি ঢাকা শহরের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে বৈদ্যুতিক নেটওয়ার্ক দুর্বল, আগুন লাগার ঝুঁকি বেশি এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। এর ফলে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতি ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় কমপক্ষে ১০০টির বেশি ঘর এবং কয়েকটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। তবে মানবিক ও সামাজিক ক্ষতি এবং মানসিক আঘাত সামলাতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবিষ্যতে কড়াইল বস্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তদন্তটি শুধু অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি ঢাকা শহরের বস্তিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীতি প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।