খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই মে ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী এবং সুরকার আদনান সামি আবারও তাঁর বাহ্যিক অবয়বে আমূল পরিবর্তন এনে জনমনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। সংগীতের মূর্ছনা ছাপিয়ে এবার তাঁর সম্পূর্ণ নতুন এবং সাহসি এক ‘লুক’ বা রূপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি স্থিরচিত্রে গায়ককে এতটাই ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা গেছে যে, প্রথম দর্শনে তাঁকে চেনা ভক্তদের জন্য দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
আদনান সামি সাধারণত মার্জিত ও সাধারণ পোশাকে অভ্যস্ত হলেও, তাঁর এই সাম্প্রতিক আলোকচিত্রে এক ধরনের ‘সিনেমাটিক’ বা চলচ্চিত্রসুলভ গাম্ভীর্য ফুটে উঠেছে। তাঁর এই নতুন সজ্জার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
ভারী অলঙ্কার ও পোশাক: তাঁকে প্রাচীন রাজকীয় আভিজাত্যপূর্ণ পোশাকে দেখা গেছে। এর সাথে তিনি পরিধান করেছেন ভারী গলার হার এবং আঙুলে বড় আকারের একাধিক আংটি।
অঙ্গসজ্জা ও মেকআপ: তাঁর চোখে গাঢ় প্রসাধনী বা মেকআপের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে, যা তাঁর দৃষ্টিতে এক রহস্যময় তীব্রতা যোগ করেছে।
হাতে উলকি: গায়কের হাতে নতুন উলকি বা ট্যাটু দৃশ্যমান হয়েছে, যা তাঁর চিরাচরিত রুচির বাইরে এক আধুনিক ও বলিষ্ঠ পরিবর্তন।
সংগীত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আদনান সামির এই চোখধাঁধানো রূপান্তর কোনো নতুন মিউজিক ভিডিও, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বা বড় কোনো বাণিজ্যিক প্রকল্পের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। যদিও শিল্পী নিজে এই বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
আদনান সামির বর্তমান এই সুঠাম দেহের নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। এক সময় প্রায় ২৩০ কেজি ওজনের এই শিল্পী চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। তবে তিনি কোনো কৃত্রিম অস্ত্রোপচার (যেমন লাইপোসাকশন) ছাড়াই অবিশ্বাস্যভাবে ১৬০ কেজিরও বেশি ওজন কমিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছিলেন।
| বিষয় | পূর্বতন অবস্থা | বর্তমান অবস্থা |
| শারীরিক গঠন | অত্যন্ত স্থূলকায় | মেদহীন ও সুঠাম |
| ওজন কমানোর পদ্ধতি | প্রযোজ্য নয় | কঠোর খাদ্যাভ্যাস ও শৃঙ্খলা |
| ফ্যাশন ধারা | সাধারণ ও ঢিলেঢালা | রাজকীয় ও আধুনিক শৈল্পিক |
| নাগরিকত্ব | পাকিস্তানি (জন্মসূত্রে) | ভারতীয় (নাগরিকত্ব প্রাপ্ত) |
আদনান সামি পিয়ানো বাজানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম হাতের অধিকারী হিসেবে স্বীকৃত। তিনি বর্তমানে ‘জি মিউজিক কোম্পানি’র সাথে একাধিক নতুন কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন যা দশকের পর দশক শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে।
উল্লেখযোগ্য গান: ‘তেরা চেহরা’, ‘মুঝকো ভি তো লিফট করা দে’, ‘ভর দো ঝোলি মেরি’ (বজরঙ্গি ভাইজান চলচ্চিত্র)।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: ভারত সরকার ২০২০ সালে তাঁকে শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘পদ্মশ্রী’ পদকে ভূষিত করে।
আদনান সামি তাঁর এই নতুন সাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, শিল্পীরা কেবল সুরের মাধ্যমেই নয়, বরং নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও অবয়বে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমেও দর্শককে বারবার মুগ্ধ করতে পারেন। তাঁর এই রাজকীয় ও রহস্যময় উপস্থিতি বিনোদন জগতের অনুরাগীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁর এই নতুন সাজের পেছনের মূল রহস্য বা নতুন কোনো সংগীত প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য। আদনান সামির এই পরিবর্তন মূলত কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য