ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার তার বাসা থেকে এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে নিশ্চিত করেছেন যে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হবে এবং মামলাগুলোতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ এবং গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এক-এগারোর সময় জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যেখানে গুরুতর অপরাধ দমন ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের তদারকি ছিল। সেই সময়ের অবদানের ফলে তিনি পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।
২০০৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। তার দায়িত্বকালের মেয়াদ তিন দফায় সরকারের পক্ষ থেকে বৃদ্ধি করা হয়। অবসরের পর তিনি ঢাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে যুক্ত হন, যার মধ্যে রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দুই দফা (২০১৮ ও ২০২৪) নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম সংগ্রহ করেছিলেন, পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জাপার নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদও তিনি অর্জন করেছেন।
নিচের টেবিলে তার প্রধান সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বছর | পদ / দায়িত্ব | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২০০৭ | নবম ডিভিশনের জিওসি | এক-এগারোর সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
| ২০০৭ | জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক | গুরুতর অপরাধ দমন ও দুর্নীতি অভিযানের নেতৃত্ব |
| ২০০৮ | হাইকমিশনার, অস্ট্রেলিয়া | তিন দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি |
| ২০১৮ | সংসদ সদস্য, ফেনী-৩ | জাতীয় পার্টি মনোনয়ন, জাপার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য |
| ২০২৪ | সংসদ সদস্য, ফেনী-৩ | পুনরায় জাপার মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত |
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার দেশের সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, কারণ তার অবদান এক-এগারোর সময়ে সরকারের কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ডিবি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান মামলাগুলোতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে। ঘটনাটি আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘ প্রতিধ্বনি ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
