জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৭:২৩ পিএম

বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ইন্টার মায়ামির শুরুর একাদশে ফিরেই নিজের চেনা ছন্দে দেখা দিলেন লিওনেল মেসি। শুধু গোলই করেননি, সতীর্থের গোলেও রেখেছেন অবদান। আর্জেন্টাইন মহাতারকার জোড়া গোলে ভর করে লিগস কাপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর ক্লাব সান লুইসকে ৪–২ ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে ইন্টার মায়ামি।
এর আগে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে কলম্বাসের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচ ২–২ গোলে ড্র হলেও গোলের দেখা পাননি তিনি। তবে লিগস কাপে ফিরেই নিজের প্রভাব দেখালেন সাতবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার।
এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় অর্জন এসেছে ব্যক্তিগত রেকর্ডে। লিগস কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন মেসি। ২০২৩ সালে নতুন কাঠামোয় শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১৪। এর আগে এই রেকর্ড ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বুয়াঙ্গার দখলে। লিগস কাপে মাত্র ১২ ম্যাচ খেলেই পাঁচবার এক ম্যাচে দুটি করে গোল করেছেন মেসি।
ফ্লোরিডার মাঠে অবশ্য শুরুটা মায়ামির পক্ষে ছিল না। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ডেভিড রদ্রিগেজের গোলে এগিয়ে যায় সান লুইস। তবে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকেরা।
১১ মিনিটে অ্যালেনের ক্রস থেকে অসাধারণ এক ভলিতে গোল করে সমতা ফেরান মেসি। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ও দারুণ ফিনিশিংয়ে করা সেই গোল আবারও প্রমাণ করে, বয়স বাড়লেও তাঁর দক্ষতা ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতায় কোনো ঘাটতি আসেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ইন্টার মায়ামির জার্সিতে এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল।
মায়ামির আক্রমণ এরপর আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ২৬ মিনিটে তেলাসকো সেগোভিয়ার গোলে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দলটি। কিছুক্ষণ পর বক্সের ভেতরে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। তাঁর নিখুঁত শট সান লুইসের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ দেয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই মায়ামি নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নেয়।
যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করেন মিকায়েল। ফলে বিরতিতে ৪–১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইন্টার মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সান লুইস। ৫১ মিনিটে রাফায়েল লোরেন্তে একটি গোল শোধ করেন। তবে মায়ামির রক্ষণভাগ এরপর আর কোনো ভুল করেনি। প্রতিপক্ষ চাপ তৈরি করলেও ব্যবধান কমাতে পারেনি মেক্সিকোর ক্লাবটি।
ম্যাচের মাঝপথে আবহাওয়াও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্লোরিডায় প্রবল বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা প্রায় ৩০ মিনিটের বেশি সময় বন্ধ রাখতে হয়। বিরতির পর খেলা শুরু হলে সান লুইস আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত সমতা ফেরানোর মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
এই জয়ে লিগস কাপের নতুন অভিযান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুরু করল ইন্টার মায়ামি। মেসির ফর্ম, দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার সক্ষমতা তাদের জন্য বড় ইতিবাচক দিক হয়ে উঠেছে।
লিগস কাপে মায়ামির পরবর্তী ম্যাচ আগামী ৯ আগস্ট। ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ মেক্সিকোর আরেক শক্তিশালী ক্লাব মন্তেরেই। মেসি আবারও আলো ছড়াতে পারেন কি না, সেটিই এখন সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
মন্তব্য