জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম

মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সাময়িকভাবে সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে। তবে টার্মিনাল সচল হওয়ার পর ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত দিন লাগবে জানতে চাইলে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ন্যূনতম দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার আগে দেশে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ ছিল, সেই পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাস সংকটের প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে বলে স্বীকার করেন জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশের কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন কমাতে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে কিছু এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আবার চালু করা হবে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও উন্নতি হবে বলে তিনি জানান।
চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত পর্যন্ত সবাইকে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় অভিযোগকারীরা প্রকৃত বিলের তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আসেন না। তিনি জানান, জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্চের তুলনায় জুন মাসে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে, যার প্রভাব বিলের ওপর পড়তে পারে।
এদিকে, এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বিদ্যমান পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে আরও বেশি পরিমাণ ডিজেল আমদানির অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবহন খরচ ও সময় কমানোর পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আরও সহজ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়তি ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।
জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা মনে করছেন, গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার এবং ডিজেলের মজুত ও আমদানি ব্যবস্থাপনা—দুই দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খাতে সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি না হয়। তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে আগামী কয়েক দিন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য