ব্রেকিং নিউজ :
মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন

দেশ

ছাতকে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ই জুন ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

ছাতকে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের ছাতকে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে প্রকাশ্য দিবালোকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে আমির আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানা এলাকার অধীনে থাকা খাদিমনগর ইউনিয়নের ধুপাগুুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামি আমির আলী দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।

পরিচয় ও পারিবারিক পটভূমি

পুলিশের অপরাধ নথিপত্র এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে মামলার আসামির বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া আমির আলী সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছুরাব আলীর ছেলে। তিনি পেশাগত জীবনে একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। বিয়ের পর থেকে তিনি নিজের গ্রামের বাড়ি ছেড়ে ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের আলাপুর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন।

অন্যদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া নিহত গৃহবধূ আছিয়া বেগম (৩৫) ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের আলাপুর গ্রামের মৃত উস্তার আলীর মেয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ১৮ থেকে ১৯ বছর পূর্বে পারিবারিক সম্মতিতে আমির আলী এবং আছিয়া বেগমের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন বেশ কিছু বছর স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বিবরণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী আমির আলী এবং স্ত্রী আছিয়া বেগমের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এই পারিবারিক কলহ চরম আকার ধারণ করলে আমির আলী উত্তেজিত হয়ে নিজ স্ত্রীর ওপর চড়াও হন।

ঘটনার দিন আছিয়া বেগম যখন আলাপুর গ্রামের একটি কালভার্টের ওপর অবস্থান করছিলেন, তখন আমির আলী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে আছিয়া বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। ছুরির উপর্যুপরি আঘাতে আছিয়া বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় কালভার্টের ওপর লুটিয়ে পড়েন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে ঘাতক আমির আলী ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ও মামলা দায়ের

গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা আছিয়া বেগমকে কালভার্ট থেকে উদ্ধার করেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তির পর চিকিৎসকরা তাঁর ক্ষতস্থানে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করেন এবং তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন।

চিকিৎসকদের সব রকম প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ জুন দুপুরে আছিয়া বেগম শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আছিয়া বেগমের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহতের স্বজন আফিয়া বেগম বাদী হয়ে ঘাতক স্বামী আমির আলীকে একমাত্র আসামি করে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তার অভিযান ও পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি

মামলা দায়েরের পর ছাতক থানা পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা এলাকার খাদিমনগর ইউনিয়নের ধুপাগুুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় আসামির অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পায় police। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছাতক থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি আমির আলীকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আমির আলী তাঁর স্ত্রী আছিয়া বেগমকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করার কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা ও আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, গৃহবধূ আছিয়া বেগমকে হত্যার পেছনে দাম্পত্য কলহ ছাড়াও নানাবিধ সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিষয় সামনে আসছে। প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের কিছু স্পষ্ট আভাস ও আলামত পাওয়া গেছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ ও উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করতে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক স্বামী আমির আলীকে যথাযথ পুলিশি প্রহরার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

মন্তব্য