কুমিল্লা দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ঘোষণা:রেল প্রতিমন্ত্রী

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ বাস–ট্রেন সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, নিহত ১২ জনের প্রত্যেক পরিবারের জন্য এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের অত্যন্ত ব্যস্ত এই রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত দুর্ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যতম বড় সড়ক–রেল দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় রেলগেট খোলা ছিল, ফলে যাত্রীবাহী বাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে। ঠিক তখনই দ্রুতগতির ট্রেন এসে বাসটিকে সজোরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতদের পরিবারকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও এ ঘটনায় নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুজন সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, তদন্তে যাদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। এই ঝুঁকি কমাতে সরকার পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ রেলগেটগুলোতে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

এর আগে একই দিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি দুর্ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অন্তত মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যেতে পারেন।

নিচে ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

সহায়তার ধরনপরিমাণ (টাকা)প্রদানকারী সংস্থা
নিহতদের পরিবার১,০০,০০০রেল কর্তৃপক্ষ
নিহতদের পরিবার২৫,০০০জেলা প্রশাসন
আহত ব্যক্তিরা১৫,০০০জেলা প্রশাসন
চিকিৎসা ব্যয়সম্পূর্ণ বহনসরকার

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও দেশের রেলক্রসিং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু তদন্ত নয়, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নই হতে পারে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের কার্যকর সমাধান।