২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক বিক্রিত শিল্পীর খেতাব পুনরায় জয় করেছেন মার্কিন গায়িকা Taylor Swift। বুধবার আন্তর্জাতিক রেকর্ডিং শিল্প সংস্থা (IFPI) এই ঘোষণা প্রকাশ করেছে। এই অর্জনের মাধ্যমে টেলর সুইফট ছয়বারের জন্য এই সম্মান অর্জন করেছেন, যা আধুনিক যুগের সঙ্গীতশিল্পীদের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী নজির।
সফলতা আসে তার সর্বশেষ অ্যালবাম “The Life of a Showgirl” এবং বিশ্বব্যাপী হিট থাকা ট্যুর ডকুমেন্টারি “The End of an Era”–এর জনপ্রিয়তার ধাক্কায়। বিখ্যাত সংগীত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান Billboard–এর তথ্য অনুযায়ী, “The Life of a Showgirl” অ্যালবামের প্রথম সপ্তাহের বিক্রি আধুনিক সময়ের সকল অ্যালবামের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি, Luminate-এর তথ্যও এই বিক্রির রেকর্ড স্থাপনকে সমর্থন করেছে।
IFPI জানিয়েছে, সুইফটের সাফল্য কেবল ফিজিক্যাল বা ডিজিটাল বিক্রিতে সীমাবদ্ধ নয়; স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও তার সঙ্গীতের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। তিনি ২০১৪ সালে প্রথমবার IFPI গ্লোবাল রেকর্ডিং আর্টিস্টের খেতাব জিতেছিলেন। এরপর ২০১৯ এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এই সম্মান অর্জন করেছেন। IFPI উল্লেখ করেছে, টেলর সুইফটের অর্জন গত দশ বছরে অন্যান্য শিল্পীদের মিলিত অর্জনের সমপরিমাণ, যা তার সৃজনশীল ধারাবাহিকতা এবং বৈশ্বিক কৌশলের সফল প্রমাণ।
সংস্থার মতে, এই পুরস্কার নির্ধারণ করা হয় শিল্পী বা ব্যান্ডের আন্তর্জাতিক বিক্রির উপর ভিত্তি করে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত স্ট্রিমিং, ডিজিটাল ডাউনলোড এবং ফিজিক্যাল মিউজিক ফরম্যাট।
২০২৫ সালের শীর্ষ তিন শিল্পীর তালিকা নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| স্থান | শিল্পী/গ্রুপ | দেশ | উল্লেখযোগ্য অর্জন |
|---|---|---|---|
| ১ | Taylor Swift | যুক্তরাষ্ট্র | “The Life of a Showgirl” অ্যালবামের রেকর্ড বিক্রয় |
| ২ | Stray Kids | দক্ষিণ কোরিয়া | K-pop গ্রুপ হিসেবে বৈশ্বিক সাফল্য |
| ৩ | Drake | কানাডা | র্যাপ ও হিপ-হপ সঙ্গীতে ব্যাপক বিক্রয় |
বিশ্বব্যাপী সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে টেলর সুইফটের জনপ্রিয়তা শুধু তার সঙ্গীতের কারণে নয়; তার সৃজনশীল কৌশল, নিরবচ্ছিন্ন অ্যালবাম প্রকাশ এবং ভিন্নধর্মী ধারাবাহিকতার কারণে তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাজারে বিশাল প্রভাব ফেলছে। এই ছয়বারের খেতাব তার কেরিয়ারের স্থায়িত্ব ও বৈশ্বিক প্রভাবকে আরও সুস্পষ্ট করেছে।
সঙ্গীত বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টেলর সুইফটের এই সাফল্য ভবিষ্যতের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আন্তর্জাতিক শিল্পীদের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে। তার উদাহরণ আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য কেবল প্রেরণা নয়, বরং বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণের একটি দৃষ্টান্তও হয়ে থাকবে।
