ইরানের মানবাধিকার কর্মী ও ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে প্রায় সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার আইনজীবী এবং তাকে সমর্থনকারী একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এএফপিকে নার্গিসের আইনজীবী মোস্তাফা নিলি জানান, আদালত তাকে দুইটি প্রধান অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। একদিকে “অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমাবেশ ও ষড়যন্ত্র” এর জন্য তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে “প্রপাগান্ডা চালানোর” অভিযোগে তাকে আরও দেড় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়াও, আদালত তাকে পূর্ব ইরানের দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশের খোসফ শহরে দুই বছরের জন্য নির্বাসনে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তার দেশত্যাগে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।
আইনজীবী নিলি জানিয়েছেন, এই রায় চূড়ান্ত নয় এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করা সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে নার্গিস মোহাম্মাদিকে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য সাময়িকভাবে জামিনে মুক্তি দেওয়া হতে পারে।
কারাগারে থাকা অবস্থায় নার্গিস মোহাম্মাদি গত ২ ফেব্রুয়ারি নিজের আটক পরিস্থিতি এবং আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করার প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন। নার্গিস ফাউন্ডেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ষষ্ঠ দিনে আজ নার্গিস অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
নার্গিস মোহাম্মাদি ইরানের দ্বিতীয় নারী নোবেল বিজয়ী। এর আগে ২০০৩ সালে শিরিন এবাদি মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার কারণে এই পুরস্কার পান।
তিনি ইরানের ‘ডিফেন্ডার্স অফ হিউম্যান রাইটস সেন্টার (ডিএইচআরসি)’-এর উপপরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন। সংস্থাটি রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকার রক্ষা, নারী অধিকার আন্দোলন, মৃত্যুদণ্ড বিরোধী কার্যক্রম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছে।
নোবেল কমিটি ২০২৩ সালে উল্লেখ করে, নার্গিস দুই দশকের অধিক মেয়েদের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
তার গ্রেফতারির প্রেক্ষাপটও উল্লেখযোগ্য। গত ১২ ডিসেম্বর, আইনজীবী খসরু আলিকোরদির রহস্যজনক মৃত্যুর পর নার্গিস তাকে স্মরণ করে একটি সভায় উপস্থিত হন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হাসান হেমাতিফা সাংবাদিকদের জানান, নার্গিস উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং উপস্থিতদের “উসকানি মূলক স্লোগান দিতে” উৎসাহিত করেন, যা পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগে রূপ নেয়।
নিচের টেবিলে নার্গিস মোহাম্মাদির বিচারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| দোষের ধরন | অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমাবেশ ও ষড়যন্ত্র, প্রপাগান্ডা চালানো |
| কারাদণ্ড | ৬ বছর + ১.৫ বছর (মোট ৭.৫ বছর) |
| নির্বাসন | খোসফ শহরে ২ বছর |
| দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা | ২ বছর |
| আইনজীবীর মন্তব্য | রায় চূড়ান্ত নয়, আপিলযোগ্য, চিকিৎসার জন্য সাময়িক জামিনের আশা |
| অনশন শুরু | ২ ফেব্রুয়ারি |
| অনশন প্রত্যাহার | ষষ্ঠ দিনে |
| নোবেল জয় | ২০২৩, নারীর অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের জন্য |
এই রায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
