খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫ পিএম

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুনারু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অজ্ঞাতদূষিতরা আগুন লাগানোর চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা সটান পালিয়ে যায়। তাদের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ফলে কোনো বড় ধরনের ক্ষতি বা ধ্বংসের ঘটনা ঘটেনি, যা স্থানীয়দের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক এড়াতে সাহায্য করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আঁখি রাণী দাস সংবাদটি নিশ্চিত করে জানান, “আমরা জানতে পেরেছি কেন্দ্রে আগুনের ‘ফুলকি’-এর মতো ছোঁড়া হয়েছে। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন স্থায়ী ছিল প্রায় এক মিনিট এবং দুটি দরজায় কালো দাগ দেখা গেছে। স্কুলটির সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তে রয়েছে।”
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি স্বরবিন্দু দাশ বলেন, “রাত ১টার দিকে আমরা জানতে পারি কয়েকজন দুর্বৃত্ত কেন্দ্রে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। কোনও বড় আগুন লাগেনি, দুটি দরজা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
স্থানীয়রা আতঙ্কিত হলেও প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে। ঘটনার পেছনে প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, এই এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ কিছু সংগঠনের প্রভাব রয়েছে। বিশেষত, লন্ডনে অবস্থানরত সুনারু গ্রামের সুশান্ত দাশ গুপ্তের বাড়ির সঙ্গে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো প্ররোচনা থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
ঘটনাস্থল ও অভিযোগ সংক্রান্ত মূল তথ্যগুলো নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | সুনারু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ |
| সময় | সোমবার, রাত ১টা |
| ঘটনার ধরন | অগ্নিসংযোগের চেষ্টা (ফুলকির মতো আগুন) |
| ক্ষতি | দুটি দরজা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত, আগুন ১ মিনিট স্থায়ী |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | পুলিশ ও সেনা দ্রুত ঘটনাস্থলে, সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ, তদন্ত চলছে |
| সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট | স্থানীয় বিতর্কিত ব্যক্তির প্ররোচনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে |
প্রশাসন এই ঘটনায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। পুলিশ ও স্থানীয় নেতারা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যে কোনো অচেনা বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত।”
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী বা অগ্নিসংযোগমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায়।
মন্তব্য